Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » মুক্তমত 

সৈয়দ আশরাফের অব্যাহতি প্রসঙ্গে

সৈয়দ আশরাফের অব্যাহতি প্রসঙ্গে
ছবি: সংগৃহীত
সুমন দত্ত ১১ জুলাই ২০১৫, ৫:১৫ অপরাহ্ন Print

বাংলাদেশের মুজিব নগর সরকারের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। যিনি ১৯৭৫ সালের ৪ নভেম্বর কারাগারে উচ্ছৃঙ্খল সেনা সদস্যের হাতে শহীদ হন। সেদিন তার সঙ্গে শহীদ হয়েছিলেন জাতীয় অন্য নেতারা। যে ঘটনাকে জেল হত্যাকাণ্ড বলা হয়। সেদিনের শহীদরা জাতীয় ৪ নেতা হিসেবে জনগণের কাছে পরিচিত। সেই ৪ নেতার একজন ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। যার জ্যেষ্ঠ সন্তান সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। যিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এলজিআরডি মন্ত্রী ছিলেন। সম্প্রতি তাকে অব্যাহতি দিয়ে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়েছে।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় কারা বসবেন তাতে নেতা-নেত্রীদের পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের কথা বিবেচনা করা হয়। সে কারণে জাতীয় ৪ নেতার সন্তানদের বিভিন্ন সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশীদার করা হয়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদ দিয়ে তাদের পরিবারকে সম্মানিত করা হয়েছে।

ক্যাপটেন মোহাম্মদ মনসুর আলীর ছেলে মোহাম্মদ নাসিমকে শেখ হাসিনা সরকার মন্ত্রী বানিয়েছেন, তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে সোহেল তাজকে মন্ত্রী বানিয়েছেন ও পরে তার বোন সিমিন হোসেন রিমিকে সংসদ সদস্য বানানো হয়। আবুল হাসনাত মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের ছেলে খায়রুজ্জামান লিটনকে রাজশাহীর মেয়র বানানো হয়েছিল।

বাংলাদেশের জনগণ চার নেতার সন্তানদের রাজনীতিতে আসাতে এবং সরকারে যোগদান করাকে নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেনি। কারণ তাদের পিতার সম্মান ছিল আকাশছোঁয়া। সে সম্মানের কথা বিবেচনা করেই তাদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। কিন্তু জাতি কী দেখলো জাতীয় চার নেতার সন্তানদের কাছ থেকে। চার নেতার সন্তানদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জাতি হতবাক। সর্বশেষ সেই ধারাবাহিকতায় যোগ হয় সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের অব্যাহতি।

রাষ্ট্রীয়কাজে কেউ যোগ দিলে তাকে নিতে হয় শপথ। সেই শপথে এমন সব শব্দ ব্যবহার করা হয় যেখানে কাজে ফাঁকি দেয়ার বা দায়িত্বে অবহেলার সুযোগ থাকে না। কিন্তু যিনি একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি মন্ত্রণালয়ের কোনো কাজেই যান না। মন্ত্রণালয়ের কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। তিনি বাসায় বসে বসে শুধু ঘুমিয়ে দিন কাটান। এমন কার্টুন এঁকে প্রথম সারির দৈনিক সমকাল খবর প্রকাশ করেছিল ২০১১ সালে। সেই অপরাধে ২০১৫ সালে তার চাকরি গেল। এ যেন গণ্ডারকে সুড়সুড়ি দেয়ার মত অনুভূতি।

শোনা যায়, গণ্ডারের চামড়া এত ভারি যে তাকে কাতুকুতু দিলে সে ৩০ দিন পর হাসে। মন্ত্রী আশরাফকে এমন এক দোষে অব্যাহতি দেয়া হলো যেটা তিনি ২০১১ সাল থেকে নিত্য করে আসছেন। তার অব্যাহতির পর থেকে এসব খবরই গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে।

একজন দেশপ্রেমিক নেতার সন্তানের কাছে জাতি আশা করে উত্তম সেবার। তিনি জনগণের মাঝে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। সবার সঙ্গে নতুন উদ্যমে কাজ করবেন। সিংহনেতার সন্তান সিংহ হবেন। কিন্তু আশরাফ সম্পর্কে যেসব কথা গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে তাতে মাথা হেট হবার শামিল। তিনি নিয়মিত অফিসে যান না। দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন না। বাড়িতে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সময় কাটান। তাকে নিয়ে কার্টুন করা হয়। এসব কাজ করে নিশ্চয়ই তার পিতার সম্মান উজ্জ্বল হয় না। যে পিতার কারণে তিনি আজ নেতা ও মন্ত্রী। তার সম্মানের কথা চিন্তা করেন না তারা। করলে তারা এভাবে লেজ গুটিয়ে থাকতে পারেন না। লন্ডনে চলে যাবার চিন্তা করতে পারতেন না।

পরিশেষে বলতে চাই- বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পদ কোনো পুরস্কার বা উপঢৌকন নয়। এটা যাকে খুশি তাকে দেয়া যায় না। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী নির্বাচনে এসব চর্চাই দেখা যাচ্ছে। কোনো সময় দেখা যাচ্ছে, যিনি সরকার প্রধান তিনি নিজের আত্মীয়দের সরাসরি মন্ত্রী করছেন অনেক কিছুকে পাশ কাটিয়ে। আবার ইতিহাস সৃষ্টিকারী নেতার সন্তানদের রাষ্ট্রীয় পদ থেকে দূরে রাখছেন শাস্তিস্বরূপ। আবার রাগ মিটলে তাকে মন্ত্রী করছেন। এটা কি গণতান্ত্রিক চর্চা?

লেখক: সাংবাদিক

ব্রেকিংনিউজ/এসডি

:: মুক্তমতের জন্য সম্পাদক দায়ী নন ::



আপনার মন্তব্য

মুক্তমত বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং