Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

বৃহস্পতিবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » বিনোদন 

খোকনের মৃত্যুতে তারকার স্মৃতিচারণ

খোকনের কাছে সবসময় মিষ্টি পান থাকতো

 খোকনের কাছে সবসময় মিষ্টি পান থাকতো
বাবুল হৃদয় ০৫ এপ্রিল ২০১৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: জীবদ্দশায় তিনযুগেরও বেশি সময় বিএফডিসিতে কাটিয়েছেন গুণী নির্মাতা শহিদুল ইসলাম খোকন। কাজ থাকুক বা না থাকুক এফডিসিতে প্রতিদিনই একবার ঢুঁ মারতেন তিনি। কখনো লাইট ক্যামেরা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাতেন। একটু অবসর পেলে চা খেতেন। আড্ডা দিতেন। মাতিয়ে রাখতেন পুরো বিএফডিসি। আড্ডাবাজ মানুষটি আর নেই। তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন চলচ্চিত্রের তারকা শিল্পীরা।

আনোয়ারা:
খোকন ভাইয়ের কাছ থেকে মাঝেমধ্যে পান খেতাম। তার কাছে সবসময় মিষ্টি পান থাকতো। আমি মাঝেমধ্যে জিজ্ঞেস করতাম এত পান আপনি কোথায় পান? তিনি হেসে বলতেন-মুন্সিগঞ্জ ও কক্সবাজার থেকে পান আনি।খোকন ভাই আর আসবেন না। তিনি আমাদের রেখে চলে গেছেন। সদা হাসি-খুশি এই মানুষটির আত্মার শান্তি কামনা করি।

সুবর্ণা মুস্তাফা:
চলচ্চিত্রে আমাকে আমার সেকেন্ড ব্রেক দিয়েছিলেন শহীদুল ইসলাম খোকন। তার কাছে আমি এখনও ঋণী। তার স্ত্রী জয়, পুত্র হৃদয় ও দুই কন্যা শীষ ও শৈলী এই শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি পাবে, এই প্রার্থনা করি। তার আত্মাও চিরশান্তিতে থাকুক।

মৌসুমী:
তাকে বলা হয় তারকা নির্মাতা। তার অধিকাংশ ছবিই সুপারহিট।খোকন ভাই খুব বড় মাপের পরিচালক ছিলেন। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। উনি চির শান্তিতে থাকতে পারেন সেই দোয়া করবেন আপনারা। উনি ভালো মানুষ ছিলেন, ভালো মনের মানুষ উনি ।

ওমর সানি:
মৌসুমি তার সর্বাধিক ছবির হিরোইন। সেই সুবাদে খোকন ভাইয়ের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল আমাদের। তার কাজ খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।খোকন ভাই মারা যাওয়াতে আমি বিস্মিত হইনি। তিনি এর মাধ্যমে মুক্তি পেয়েছেন। আমি তার মাগফেরাত কামনা করছি।

এটিএম শামজুজ্জামান:
‘আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না যে খোকন চলে গেছে। সে তার কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে আছে, বেঁচে থাকবে।খোকন যে চিন্তা চেতনা থেকে কাজ করতো তা অনেকেই করতে পারবে না। কিন্তু তার দেখানো পথে কাজের চেষ্টা করতে পারবে।

রুবেল:
আমি শেষবারের মতো তার মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখা হলো। বাড়িতে একদিন দেখা হলো। হাসপাতালে দুবার দেখা হলো। তারপর সত্যিই আমি আর তাকে দেখতে যাইনি। দেখতে যাওয়া উচিত ছিল, কিন্তু ওই শহীদুল ইসলাম খোকনকে দেখার শক্তি বা সাহস আমার ছিল না। তাকে আমি অনেক ভালোবাসতাম। চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে তার মতো পরিচালক বা ভালো বন্ধু আমার কেউ নেই। খোকনের শূন্যস্থান কখনো পূরণ হওয়ার নয়।

শিমলা:
তিনি নেই—এ কথা বিশ্বাস করতে পারছি না। তিনি শুধু আমাকে চলচ্চিত্রে নিয়ে আসেননি। তিনি আমার বাবার মতোই একজন মানুষ। আমাকে হাত ধরেই তিনি চলচ্চিত্রে নিয়ে এসেছেন। সবকিছু ধরে ধরে শিখিয়েছেন। চলচ্চিত্রে আমি যা কিছু হতে পেরেছি, তা শুধু তার কারণেই। এখনো আমাকে কোথাও দেখলে ‘ম্যাডাম ফুলির শিমলা বলে ডাকেন। একজন অভিনয়শিল্পীর সার্থকতা এখানেই। খোকন ভাই, আমাকে সেই সার্থকতা এনে দিয়েছেন।

কেয়া: ‘খুব খারাপ লাগলো। অনেক হাসিখুশি একটা মানুষ ছিলেন শহীদুল ইসলাম খোকন ভাইয়া।’আমি তার জন্য দোয়া কামনা করছি।

তামান্না:
শহীদুল ইসলাম খোকন ছিলেন একজন অত্যন্ত গুণী পরিচালক। তার পরিচালিত ‘ভণ্ড’ ছবির মাধ্যমে আমি অভিনয় শুরু করি। সে ছবিতে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি নিজের কাজের প্রতি কতো গভীর নিষ্ঠা ছিল তার। প্রতিটি দৃশ্য যেন নিখুঁত হয়, অভিনয় যেন সাবলীল হয়, সেজন্য বারে বারে দৃশ্য ধারণে তার কোনো ক্লান্তি ছিল না। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র জগতের বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার কাছে কৃতজ্ঞ। কারণ তিনি আমাকে প্রথম সুযোগ দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, চলচ্চিত্রকার শহীদুল ইসলাম খোকন দীর্ঘদিন মুখগহ্বরে দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার (৪ এপ্রিল) সকাল সোয়া ৮টায় একই হাসপাতালে তিনি মারা যান।

ব্রেকিংনিউজ/বিএইচ



আপনার মন্তব্য

বিনোদন বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং