Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় 

উপ-সম্পাদকীয়

অস্বাভাবিক মৃত্যু কেন দিন দিন বাড়ছে?

অস্বাভাবিক মৃত্যু কেন দিন দিন বাড়ছে?
১৯ মার্চ ২০১৪, ১২:৩৬ অপরাহ্ন Print

হাতিয়া সংলগ্ন মেঘনা নদীতে শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ২০ থেকে ২২টি অজ্ঞাত পরিচয় লাশ ভাসতে দেখেছে স্থানীয় অধিবাসীরা। সোমবার মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে চট্টগ্রামের একটি, কুমিল্লার একটি ও নোয়াখালীর দুটি স্থান থেকে সাতটি লাশ উদ্ধার হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই এভাবে লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে র‌্যাব, পুলিশ, ডিবি কিংবা 'প্রশাসনের লোক' পরিচয়ে গুম ও হত্যা। চলছে রাজনৈতিক সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনা। সারা দেশে যেন শুধু লাশের মিছিল! এত এত লাশের ভার কি করে বহন করবে এই রাষ্ট্র? এসব ঘটনায় গোটা দেশবাসী চরমভাবে আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন ।

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীরে শুক্রবার বিকেল থেকে সোমবার পর্যন্ত জোয়ারের টানে ভেসে আসে অজ্ঞাত পরিচয় ২০ থেকে ২২টি লাশ। এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ ও কোস্টগার্ড কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি।

লাশগুলোর শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছে এলাকাবাসী। তারা ধারণা করছে লাশগুলো জলদস্যুদের। গত কয়েকদিন আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতদের গোলাগুলির ঘটনাই তাদের এই ধারণার নেপথ্যের কারণ।

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর খুলশী দুই নম্বর গেইট এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংক থেকে দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কামরুল হাসান (১৮) ও মোহাম্মদ ফোরকান (২০) নামের ওই দুই যুবকেরই পায়ের রগ কাটা ছিল। কামরুল নগরের ওমর গণি এমইএস কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। অন্য জন ফোরকান ছিলেন সিইপিজেডে একটি গার্মেন্টেসের শ্রমিক। নিহতদের পরিবারের দাবি, তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

এদিন দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মুকিমপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত মন্দির থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। তারা বলছে, ১০ থেকে ১৫ দিন আগে দুর্বৃত্তরা অন্য স্থানে হত্যা করে মন্দিরে এ মৃতদেহটি ফেলে যায়।

কাছাকাছি সময়ে নোয়াখালীর হাতিয়ায় সুখচর ইউনিয়নের বউ বাজারসংলগ্ন মেঘনার কূলে একটি লাশ ও চর কিং ইউনিয়নের বগলার খালসংলগ্ন চরে দুটি লাশ দেখতে পায় কোস্টগার্ড। পরে পুলিশ দুটি লাশ উদ্ধার করতে পারলেও একটির এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার পশ্চিম দেলিয়া গ্রামের একটি পুকুর ও পাশের খাল থেকে ছাত্রদল ও যুবলীগের দুই কর্মীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন স্থানীয় মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মিকাইল হোসেন ওরফে আকাশ (২৫) ও চাটখিল পৌর যুবলীগের কর্মী আল-আমিন (২৬)। যথারীতি কেউ-ই বলতে পারছেন না কারা তাঁদের খুন করেছে।

এভাবে দেশজুড়ে হত্যা, মৃত্যু আর অপরাধের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে আর অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। দেশটা কি তবে অপরাধীদের মগের মুল্লুকে পরিণত হলো!

সংশ্লিষ্টরা মনে করছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাজনৈতিক কাজে বেশি ব্যবহারের ফলে তারা অপরাধ দমনের দিকে নজর দিতে পারছে না। এছাড়া সরকারী বাহিনীও যখন অনিয়ম, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড আর লাশ গুমের মতো ঘটনার সাথে জড়িয়ে পড়ে তখন অপরাধীরাও একে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগায়।

অন্যদিকে জনগণের মধ্যে এমন ভাবনাই বদ্ধমূল হয়ে পড়ছে যে, স্বয়ং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে রাষ্ট্রে অপরাধ আর মৃত্যুর পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এই মৃত্যু উপত্যকাই কি তবে আমার দেশ? এই বিস্তীর্ণ শ্মশানভূমিই কি আমাদের মাতৃভূমি? এ থেকে কি মুক্তি মিলবে না আমাদের, উত্তরণ ঘটবে না এ দেশের? নিরুদ্বিগ্ন শান্তির জীবন আর কবে পাবে দেশবাসী? এসব প্রশ্ন যাদের কাছে সেই রাষ্ট্র আর প্রশাসন তো নিরুত্তর। গ্রেফতার বা শাস্তি দেয়া 'দিল্লী দুরস্ত', তারা হদিসই দিতে পারছে না অপরাধীদের। চলছে শুধু লোক-দেখানো দায়সারা তদন্ত। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে দেশবাসীর। আমরা চাই এ পরিস্থিতির অবসান ঘটুক। অন্ধকার মৃত্যুকূপে পরিণত হওয়া এই রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে শান্তিপূর্ণ জীবনের আলোর দিকে মুখ তুলুক জনগণ।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। আর সেই পদক্ষেপ নিতে সরকার কতটা রাজনৈতিক বিবেচনার উর্ধ্বে উঠতে পারে, কতটা জনগণলগ্ন হতে পারে সেটাই লক্ষণীয়।

ব্রেকিংনিউজ/এফই



আপনার মন্তব্য

সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং