Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় 

জঙ্গি প্রশ্নে সরকারের ব্যর্থতা প্রকট হয়ে উঠছে

জঙ্গি প্রশ্নে সরকারের ব্যর্থতা প্রকট হয়ে উঠছে
সম্পাদকীয় ডেস্ক ০১ নভেম্বর ২০১৫, ৮:১৬ অপরাহ্ন Print

রাজীব, অভিজিৎ, ওয়াশিকুর, অনন্ত হয়ে সর্বশেষ নিলয় নীলাদ্রি এই পাঁচ ব্লগারের পর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন দুই বিদেশী নাগরিক। এবার খুন হলেন জাগৃতির প্রকাশক ফয়সাল আরেফীন দীপন। এবং হত্যাচেষ্টার শিকার হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুলসহ তিনজন। হত্যার হুমকি পাওয়া ব্লগার ও লেখকদের তালিকাও প্রকাশিত হয়েছে বেশ আগেই। তালিকায় থাকা অনেকে আক্রান্ত হয়ে প্রাণে বেঁচে গিয়ে দেশত্যাগ করেছেন। আর তালিকায় থাকা অন্যরা এক আতঙ্কগ্রস্ততায় জীবন যাপন করছেন।

এর মধ্যে বিশেষভাবে লক্ষ্যনীয় যে হামলাকারীরা একটি হত্যাকাণ্ডের পর আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটাতে আরো কৌশলী হওয়ার পাশাপাশি সময়ের দূরত্বও কমিয়ে আনছে। যা তাদের ক্রমেই শক্তিশালী সাংগঠনিক রূপকেই প্রকাশ করছে। দীপনকে হত্যার আগেই একই দিনে টুটুলসহ তিনজনের ওপর হামলা জঙ্গিদের শক্তি ও সাহস বৃদ্ধির কথাই প্রমাণ করে। উভয় ক্ষেত্রেই হামলার পরে আহতদের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। তাদের অপরাধ ছিল জাগৃতি ও শুদ্ধস্বর উভয়ই নিহত লেখক-ব্লগার অভিজিত্ রায়ের একাধিক বইয়ের প্রকাশক।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার রাজীব হায়দার মিরপুরে খুন হন। এ ঘটনার দুই বছর পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় খুন হন লেখক-ব্লগার অভিজিত্ রায়। এর পরের মাসেই ৩০ মার্চ দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান, ১২ মে অনন্ত বিজয় দাস ও ৭ আগস্ট নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায়। পাঁচ ব্লগার হত্যাকাণ্ডের পর নিহত দুই বিদেশীকে হত্যা করা হয় এক সপ্তাহের মধ্যে। আর এবার খুন হলেন জাগৃতির প্রকাশক ফয়সাল আরেফীন দীপন ও টুটুলের ওপর হামলা হলো একই দিনে, মাত্র কয়েক ঘন্টার তফাতে।

এমতাবস্থায়, সরকার প্রথম থেকে "দেশে জঙ্গি নেই", আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক" ইত্যাদি বলার পর পুরাণা বাদ্যই বাজতে থাকে। সরকারের তরফ থেকে বিরোধী দলের দিকে ইঙ্গিত দিতে দিতে "জজ মিয়া" প্যাকেজ হাজির করার কথাও জনগণের মনে পড়ে যায়, হামেশা।

ফয়সাল আরেফীন দীপনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক ছেলের হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘কোনো বিচার চাই না। আমি চাই, সবার মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হোক।’

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, দুটি ঘটনাই পূর্বপরিকল্পিত। কারা কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা খুঁজে বের করা হবে। খুনের পেছনে সম্ভাব্য সব কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের এই বক্তব্য প্রায় গৎ বাঁধা ও রুটিনমাফিক।

তবে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ছেলের লাশ নেওয়ার পর অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ‘যদি শুভবুদ্ধি উদয় হয়, তাহলেই সমস্যার সমাধান হবে। বিচার, পুলিশ ও আইন-আদালত দিয়ে তো শুধু আমরা একজনকে শাস্তি দিতে পারি। কিন্তু জাতীয় উন্নতি হবে না।’

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের এই মন্তব্যের মধ্যেই রাষ্ট্র হিসেবে এবং সরকারের এই ধরণের একের পর এক হত্যাকাণ্ড, হুমকির বিচার না করার ব্যর্থতাই প্রকট আকারে ধরা দিয়েছে।

আমরা চাই দীপন হত্যাসহ এই ধরণের সকল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার ও দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার সব ধরণের কার্যকর পদক্ষেপ নিক। কিন্তু, এই সময়ে সরকার যদি এসব ঘটনার রাজনীতিকিকরণ করে বিরোধীদরে দমনে ফায়দা নিতে চায় তবে বাংলাদেশের সামনে সত্যিই ভয়াবহ ও গভীর এক সমস্যা মাথাচারা দিয়ে উঠেছে। যা সামলানো সম্ভব হবে না, আর সামলাতে গেলেও তখন ভয়াবহ ক্ষতির মধ্য দিয়েই সামলাতে হবে।

ব্রেকিংনিউজ/ এসজে



আপনার মন্তব্য

সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং