Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় 

মাঝসড়কে ক্ষুব্ধ যাত্রীদের অসহায় বিষোদগার

মাঝসড়কে ক্ষুব্ধ যাত্রীদের অসহায় বিষোদগার
সম্পাদকীয় ডেস্ক ২১ অক্টোবর ২০১৫, ১:২৯ অপরাহ্ন Print

সম্প্রতি বাসভাড়াকে কেন্দ্র করে কার্যত নৈরাজ্য বিরাজ করছে। প্রশাসন, বাস মালিক-শ্রমিক টানাপোড়নে নাগরিক হয়রানি চরম আকার ধারণ করেছে। কয়েকদিন আগে কিছু বাসে বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত বাসভাড়ার তালিকা টাঙানো ছিলো। তালিকানুযায়ী মিরপুর ১২নং থেকে ভিক্টোরিয়া পার্ক পর্যন্ত ২৯ টাকা ভাড়া হলেও আদায় করা হচ্ছে ৩০টাকা, এবং কৌশলের তা হয়ে যাচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০টাকা। কাজীপাড়া থেকে ভিক্টোরিয়া পার্ক পর্যন্ত  নির্ধারিত ভাড়া ২২টাকা। কিন্তু সেখান থেকেও আদায় করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। ঢাকার অন্য রুটের চিত্রও কমবেশি একই। এর মধ্যে, সরকার বিভিন্ন সড়কে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে। তবে, সরকারের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ভাল হলেও, কার্যত তা পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের দৌরাত্ম্য না কমিয়ে বরং যাত্রী হয়রানিই বাড়িয়ে তুলছে।

একদিকে, বাসমালিকদের তৈরি করা কৌশলে যাত্রীদের জিম্মি করে পরিবহণ শ্রমিকরা আদায় করছে বাড়তি ভাড়া। অফিসগামী ছাড়াও বিভিন্ন দরকারে যাত্রীরা একরকম বাড়তি ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে রওনা দিচ্ছে। এরমধ্যে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ এবং প্রশাসন বাড়তি ভাড়া রোধ করতে সড়ক-মহাসড়কের মাঝখানে মোবাইল কোর্ট বসিয়েছে। এতে, বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়েও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না যাত্রীরা। কারণ, মাঝ রাস্তায় মোবাইল কোর্ট বাড়তি ভাড়া আদায়ের দায়ে বাসটিকে আটকে দিচ্ছে। এ পর্যায়ে অসহায় যাত্রীরা সড়কের এমন এব স্থানে বাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখান থেকে বিকল্প যানবাহন পাওয়াও কঠিন।  

কথা হচ্ছে যাত্রী অধিকার রক্ষা, ফিটনেসসহ বিভিন্ন কারণে গণপরিবহণে কার্যকর সরকারি তদারকি ও নজরদারি নিশ্চিত করা দরকার। হাজার হাজার যাত্রীর নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতার বিকল্পও নেই। তবে, বাসমালিক ও পরিবহণ শ্রমিকদের দৌরাত্ম্যের শিকার সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিকে আরও বৃদ্ধি না করে এমন ব্যবস্থাই করা দরকার। না হলে, হিতে বিপরীত হতে বাধ্য। কারণ, অনন্যপায় হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওয়ানা দেওয়া ক্ষুব্ধ যাত্রীদেরকে মাঝসড়কে দাঁড়িয়ে তাই বাসমালিক-শ্রমিক ও প্রশাসণ উভয়কেই বিষোদগার করতে দেখা যায়।  

যাত্রী অধিকার রক্ষাসহ নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকারকে অবশ্যই কঠোর হতে হবে, তবে এ লক্ষ্যে গৃহিত পদক্ষেপ যেন যাত্রী ভোগান্তি বাড়িয়ে না তোলে সেদিকে সজাগ থাকাটাও জরুরী।

ব্রেকিংনিউজ/এসজে



আপনার মন্তব্য

সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং