Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় 

রাজনকে ছাড়াই ঈদ করতে হলো

রাজনকে ছাড়াই ঈদ করতে হলো
মো. মাইনুল ইসলাম ১৮ জুলাই ২০১৫, ১২:৩৭ অপরাহ্ন Print

মুসলিম উম্মাহর সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদের আনন্দে হানা দিয়েছে বৃষ্টি। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পালিত হচ্ছে ঈদ। ঈদের আনন্দে প্রথম হানা দিয়েছে সিলেটের সামিউল ইসলাম রাজন হত্যাকাণ্ড। রমজান মাসেই নরপিশাচদের নির্মমতায় প্রাণ হারিয়েছে রাজন। ঈদের আনন্দ ছুঁতে পারেনি রাজনের পরিবারকে। শোকাহত করেছে পুরো জাতিকে। এবারের ঈদটা রাজনকে ছাড়াই করতে হলো। নির্মম বাস্তবতা এটাই।

কখনো কখনো কোনো অমানবিক কার্যকলাপ পুরো জাতিকে স্থবির করে দেয়। সামান্য চুরির অপবাদ দিয়ে কী নির্মম ভাবেই না হত্যা করা হয়েছে রাজনকে। তাও পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস রমজানে। যদিও ৯ জন অপরাধীকে বিভিন্ন ভাবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সারা দেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে সর্বস্তরের মানুষ। এখন অপেক্ষা বিচারের।

গত ঈদেও রাজন ছিলো তার বাবা-মায়ের বাহুবন্ধনে। আজ নেই। ভাবতেই বুকের ভিতর মোচর দিয়ে ওঠে বাবা-মার। এমনকী স্তব্ধ পুরো গ্রাম। খেলার সাথীরাও শূন্যতা অনুভব করছে। প্রিয় রাজন নেই। এবারের ঈদেও ওর থাকার কথা ছিলো। কয়েকদিন পরেই নতুন জামা-কাপড় কেনার কথা ছিলো। বাবার কাছে বায়নাও ধরেছিলো নতুন শার্টের। ইচ্ছা থাকলেও রাজনের আবদার পূরণ করা হয়নি বাবার। চোখের জলে ভেসে যাচ্ছে ঈদের আনন্দ।

ঈদ মানেই আনন্দ। সে আনন্দ সকলের। ধনী-গরিব, আশরাফ-আতরাফ, মালিক-শ্রমিক সর্বস্তরের মানুষের। অথচ সোয়ান গার্মেন্টের শ্রমিকরা ঈদের দিনেও জাতীয় প্রেস ক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। বকেয়া বেতন, বোনাস ও বন্ধ করে দেয়া কারখানা খোলার দাবিতে তাদের এ আন্দোলন। রোদ-জলে একাকার তাদের আনন্দ। আমাদের কী কোনোই দায়বদ্ধতা নেই? তাদের কী ন্যূনতম আনন্দ উপভোগ করার অধিকার নেই? আমরা এতো নিষ্ঠুর কেন? রাষ্ট্রযন্ত্র কেন ওদের ঈদ উদযাপনের দায়িত্ব নিতে পারেনি? এসব কেবলই প্রশ্ন। উত্তর যার কাছে তিনি কেন নির্বিকার।

তবু দিন যায়। রাত আসে। রাতের শেষেই আরেকটি সকাল। চলে যাবে একটি আনন্দময় দিন। শুধু ওরাই আনন্দবঞ্চিত। এদিনটি আর ফিরে আসবে না। শুধু থেকে যাবে বোবা কান্না। তবে একটাই দাবি, আগামী প্রতিটি ঈদ হোক সবার। আনন্দ যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। রাজন, পোশাক শ্রমিকসহ খেটে খাওয়া মানুষেরাও যেন উচ্চস্বরে বলতে পারে ঈদ মোবারক।

পবিত্র ঈদ বয়ে আনুক দেশের সার্বিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ববোধ। সকল জরা-গ্লানি মুছে গিয়ে সুখী বাংলাদেশ গড়ে উঠুক আগামীর পৃথিবীতে। শুভকামনা প্রিয় দেশবাসীর জন্য। সমগ্র বিশ্বের তাবৎ মুসলিম উম্মাহর দুঃখ-দুর্দশার আঁধার কেটে আসুক আলোকিত ভোর।

সবশেষে ব্রেকিংনিউজের পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ। ভালো থেকো দেশ। ভালো থেকো প্রিয় মানুষ।

মো. মাইনুল ইসলাম
সম্পাদক
ব্রেকিংনিউজ ডটকম ডটবিডি।

ব্রেকিংনিউজ/এসইউএম



আপনার মন্তব্য

সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং