Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় 

মুক্ত সাংবাদিকতা সবার কাম্য

মুক্ত সাংবাদিকতা সবার কাম্য
মো. মাইনুল ইসলাম ০৩ মে ২০১৫, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন Print

গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। গণমাধ্যম স্বাধীন হলেই তার সুফল সরকার তথা জনগণ ভোগ করতে পারে। এ কথাই সর্বজন বিদিত।

৩ মে বিশ্ব মুক্ত সাংবাদিকতা দিবস। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন, স্বাধীনতা রক্ষা করার শপথ গ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ক্ষতিগ্রস্ত ও জীবনদানকারী সাংবাদিকদের স্মরণসহ তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মধ্য দিয়ে ১৯৯৩ সাল থেকে এই দিনে বিশ্বের প্রতিটি দেশে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

১৯৯১ সালে ইউনেসকোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ অনুযায়ী জাতিসংঘ ১৯৯৩ সাল থেকে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। মুক্ত সাংবাদিকতার মৌলিক চাহিদাগুলো চিহ্নিত করাই ছিল এর প্রধান লক্ষ্য।

মানবাধিকার সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেকেরই চিন্তা, বিবেক ও ধর্মের স্বাধীনতা ভোগ করার অধিকার রয়েছে। নিজ ধর্ম অথবা বিশ্বাস পরিবর্তনের স্বাধীনতাও রয়েছে প্রত্যেকের। একইভাবে ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, প্রত্যেকেরই মতামত পোষণ ও প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে। বিনা হস্তক্ষেপে মতামত পোষণ করা এবং যেকোনো উপায়ে রাষ্ট্রীয় সীমানা নির্বিশেষে তথ্য ও মতামত সন্ধান করা, গ্রহণ করা বা জানানোর স্বাধীনতা এই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা অনুযায়ী জাতিসংঘ মুক্ত স্বাধীন মতামতভিত্তিক সাংবাদিকতা নিশ্চিত করার জন্য সব রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায়। কিন্তু মৌলিক স্বাধীনতা সর্বত্র বিপর্যস্ত। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় অব্যাহতভাবে চলে সেন্সর প্রথা, কারাদণ্ড প্রদান এবং কখনো কখনো মৃত্যুদণ্ড প্রদানের মাধ্যমে।

জাতিসংঘ মনে করে, মুক্ত সাংবাদিকতার প্রাণ হচ্ছে সাংবাদিক। দিবসটিতে বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব-কর্তব্যের পাশাপাশি অধিকার সচেতন হয়। বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়। দেশের সাংবাদিকরাও আজ অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ।

তবু বিভিন্ন সময় নানামুখী সমস্যায় পড়তে হয় সাংবাদিকদের। নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকারও হতে হয় তাদের। আশঙ্কার বিষয়, এসব হত্যাকাণ্ডের বেশির ভাগেরই বিচার হয় না। খোঁজ মেলে না খুনিদের। সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতি হত্যাকাণ্ড নিয়েও চলছে নানা টালবাহানা। সরকারি রোষানলে বন্ধ হয়ে আছে বেশকয়েকটি গণমাধ্যম। কর্ম হারিয়েছে অনেক সংবাদকর্মী। এসব একেবারে অপ্রত্যাশিত।

বাস্তবতা হলো এই, আমাদের দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাও খর্ব করা হচ্ছে। মুক্ত সাংবাদিকতা দিবসে আমাদের একটাই দাবি, গণমাধ্যমকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হোক। তাতে দেশ ও জনগণ উভয়েই উপকৃত হবে। জয় হোক সাংবাদিকতার।

মো. মাইনুল ইসলাম
সম্পাদক,
ব্রেকিংনিউজ ডটকম ডটবিডি।



আপনার মন্তব্য

সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং