Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় 

অতিথি পাখির অভয়ারণ্য হোক বাংলাদেশ

অতিথি পাখির অভয়ারণ্য হোক বাংলাদেশ
মো. মাইনুল ইসলাম ০৮ ডিসেম্বর ২০১৪, ৩:১৪ অপরাহ্ন Print

হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসতে শুরু করেছে ঝাঁকে ঝাঁকে রংবেরঙের অতিথি পাখিরা। প্রতি বছরের মতো এবারের শীতেও অস্ট্রেলিয়া, চীন, সাইবেরিয়াসহ পৃথিবীর নানা অঞ্চল থেকে নিজেদের জীবন বাঁচাতে একটু উষ্ণতার জন্য এসব পরিযায়ী পাখি আসছে বাংলাদেশে। তাদের আগমনে প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সৌন্দর্য যেন বেড়ে গেছে বহুগুণ। এসব পাখিদের পাখসাট আর কলকাকলিতে মুখরিত এখন আমাদের পুকুর, নদী-নালা, জলাশয়, খাল-বিল, হাওর-বাওরগুলো।

অতিথিপরায়ন জাতি হিসেবে বাঙালির সুনাম সুবিদিত। মানুষ কিংবা পাখি- সকলকেই আমরা সাদরে গ্রহণ করি আমাদের আতিথ্যের ছায়ার নিচে। কিন্তু কতিপয় অসাধু পাখিশিকারির কারণে আমাদের সেই সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা অবাধে হাজার হাজার অতিথি পাখি শিকার করে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে, তেমনি লঙ্ঘন করছে আইন। যেসব পাখি বাঁচার তাগিদে এ দেশে আসছে তাদের শিকার ও হত্যার মতো নির্মম কাজ নির্বিচারেই করা হচ্ছে। অথচ প্রশাসন নির্বিকার।

প্রায় ১৫০ প্রজাতির পাখি আমাদের দেশে প্রতি বছর অগ্রহায়ণের শেষে ও পৌষ মাসের শুরুর দিকে বেড়াতে আসে। এসব পাখির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের অতি পরিচিতি অতিথি পাখি নর্দান পিনটেইল। এছাড়া রয়েছে স্বচ্ছ পানির বালি হাঁস, খয়রা চখাচখি, কার্লিউ, বুনো হাঁস, ছোট সারস পাখি, বড় সারস পাখি, হেরন, নিশাচর হেরন, ডুবুরি পাখি, কাদাখোঁচা, গায়ক রেন পাখি প্রভৃতি।

উত্তর গোলার্ধ অর্থাৎ বরফাচ্ছন্ন শীতপ্রধান দেশের কনকনে ঠাণ্ডার প্রকোপ থেকে বাঁচতে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ আবহাওয়ার টানে বহু পথ পাড়ি দিয়ে আসে ওরা। হিমালয় এবং হিমালয়ের ওপাশ থেকেই বেশির ভাগ অতিথি পাখির আগমন ঘটে আমাদের দেশে। এসব পাখি হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত তিব্বতের লাদাখ থেকে সেন্ট্রাল এশিয়ান ইন্ডিয়ান ফ্লাইওয়ে দিয়ে প্রবেশ করে। এ ছাড়া ইউরোপ, দূরপ্রাচ্য থেকেও এসব পাখি আসে। এরা কিছু সময় বাংলাদেশে আতিথ্য গ্রহণ করে মার্চ-এপ্রিলের দিকে আবার নিজ দেশে ফিরে যায়। অথচ এই অল্প সময়ের মধ্যেই তারা হাজারে হাজারে মারা পড়ে শিকারির হাতে।

অতিথি পাখির আগমনে চলতি শীত মৌসুমেও শিকারিচক্র তৎপর হয়ে উঠেছে। পাবনার সুজানগরে, মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওড়ে, উখিয়ার জলাশয়গুলোতে, ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ উপকূলের চরাঞ্চলগুলোয়, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার বড় হাওরের বিভিন্ন এলাকায়, বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় অবাধে শিকার করা হচ্ছে অতিথি পাখি। পুলিশ কিংবা বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতায় অতিথি পাখিগুলো শিকারিদের হাতে মারা যাচ্ছে। জাল ফেলে এবং বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে এসব পাখি ধরা হচ্ছে। এ কারণে দিন দিন অতিথি পাখির আগমনও কমে যাচ্ছে। প্রভাবশালীরা পাখি শিকার করে স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে একাংশ প্রকাশ্যে বাজারে বিক্রি করছেন এবং বাকি অংশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাচার করছেন। অথচ আইন অমান্যকারী এসব চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না।

অতিথি পাখি রক্ষায় আইন রয়েছে। তবে সেটা কাগজে-কলমেই। বাস্তবে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২-এর কোনো প্রয়োগ নেই। এ ছাড়া নানা অসঙ্গতির কারণে এ আইনটি সংশোধনেরও দাবি জানিয়ে আসছে পরিবেশবাদীরা। বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুসারে অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রয় করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এ আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নেই বলে পাখিশিকারিদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। শুধু পেশাদার নয়, অনেক শৌখিন শিকারিও অতিথি পাখি শিকার করছে।

অতিথির নিরাপদ, মুক্ত জীবন নিশ্চিত করা ও তাদের রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই। এসব পাখিকে শিকারির কবল থেকে বাঁচাতে যেমন আইনের কঠোর প্রয়োগ জরুরি তেমনি জনসচেতনতা সৃষ্টি করাও একান্ত প্রয়োজন। আমরা দেখতে চাই আর একটি অতিথি পাখিও যেন নিধন করা না হয়। তারা নির্ভয়ে বিচরণ করুক এই দেশে। অতিথি পাখির জন্য অভয়ারণ্য হয়ে উঠুক বাংলাদেশ।

সম্পাদক,
ব্রেকিংনিউজ ডটকম ডটবিডি
বিজয় নগর, ঢাকা।



আপনার মন্তব্য

সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং