Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় 

ইবোলা মোকাবিলায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত?

ইবোলা মোকাবিলায় বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত?
মো. মাইনুল ইসলাম ২৮ অক্টোবর ২০১৪, ২:২৮ অপরাহ্ন Print

ইবোলা আতঙ্কে ভুগছে সারা বিশ্ব। মূলত পশ্চিম আফ্রিকার তিনটি দেশে মহামারি আকার ধারণ করার পর ইউরোপ ও আমেরিকাকেও এখন আতঙ্কে ফেলে দিয়েছে এই ভাইরাস। বাংলাদেশও এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করছে। কিন্তু এই সতর্কতাই কি যথেষ্ঠ? ইবোলায় আক্রান্ত হলে তা মোকাবিলায় বাংলাদেশ কি সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত? অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় এর উত্তরটি হবে নেতিবাচক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী ইবোলা সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৪ হাজার ৯২২ জন। লাইবেরিয়ায় ২ হাজার ৭০৫ জন, সিয়েরা লিওনে ১ হাজার ২৮১ জন এবং গিনিতে ৯২৬ জন নিহত হয়েছে।

বাংলাদেশও ইবোলা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কেননা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়াসহ যেসব দেশে ইবোলা আতঙ্ক রয়েছে সেসব দেশ থেকে প্রায় দেড়শ’ প্রবাসী দেশে ফিরলেও তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়নি। ফলে ইবোলা নিয়ে আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। এই ভাইরাসটি আক্রান্ত রোগীর স্পর্শ, রক্ত, থুতু, বমি, মল, প্রস্রাব প্রভৃতি থেকে আরেক দেহে ছড়ায়। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ রাষ্ট্রে এর প্রাদুর্ভাব ঘটলে তা আর ঠেকানো যাবে না, মহামারির আকারে ছড়িয়ে পড়বে।

যেখানে উন্নত দেশগুলো ইবোলার আক্রমন ও সংক্রমণ ঠেকাতে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে সেখানে বাংলাদেশে এই ভাইরাস প্রবেশের কোনো আশঙ্কা নেই বলে দাবি করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, আমি নিজেই এই বিষয়টি মনিটরিং করছি এবং আমাদের ২৫টি টিম রাত দিন কাজ করছে। আমরা কিছুটা ভীত হলেও আতঙ্কে নেই।

তবে মন্ত্রী বলেন, যে কোনো মূল্যেই হোক এই ভাইরাসকে বাংলাদেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। আমরা ইবোলা পরীক্ষার জন্য উন্নতমানের থারমো স্ক্যান মেশিন ক্রয় করছি। খুব তাড়াতাড়ি আমরা এই মেশিন হাতে পাব।

ডব্লিউএইচও’র হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সিয়েরালিওন ও লাইবেরিয়ায় ইবোলা ভাইরাসে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী বিশেষ জরুরি সতর্ক ব্যবস্থা জারি করেছে সংস্থাটি। যেহেতু এ রোগের প্রতিষেধক নেই সেক্ষেত্রে সব দেশকে কঠোরভাবে মনিটরিং করার পরামর্শ দিয়েছে তারা।

সারাবিশ্বে মাত্র ৯টি দেশে ৯টি ল্যাবরেটরিতে ইবোলা নিশ্চিত করার পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে যদি কোনো লোকের ইবোলা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে তার নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা সিডিসি পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠানোর জন্য ডব্লিউএইচও’র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

এত আতঙ্কের মাঝেও আশার কথা হলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বিমান, স্থল ও সমুদ্রবন্দরে ২৫টি মেডিকেল টিম বসানো হয়েছে। ইবোলা আক্রান্ত কাউকে পাওয়া গেলে তার চিকিৎসার জন্য রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ২০ শয্যার একটি পৃথক ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে৷

অন্যদিকে ইবোলা রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করেছে কানাডা। এই ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রয়োগের জন্য জেনেভায় ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

ইবোলার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে হলে যেসব সচেতনতামূলক প্রচারণা দরকার তা সরকারের পক্ষ থেকে নেয়ার যথেষ্ট কোনো উদাহরণ আমাদের সামনে নেই। যদিও এই সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সব সময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকাই ইবোলা থেকে বাঁচার উপায়। বাহির থেকে বাসায় ফিরলে আমাদের অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত, পা, মুখ ধুতে হবে। পশু, পাখি বা মানুষের কামড় দেয়া ফল বা যে কোনো খাবার খাওয়া যাবে না। বন্য পশুর মাংস খাওয়াও যতসম্ভব এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী এ রোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। এ পর্যন্ত যে একশ থেকে দেড়শ জন যাত্রী বিমানবন্দর দিয়ে আক্রান্ত দেশ থেকে বাংলাদেশে এসেছে তাদের পরীক্ষা করার জন্যও বাংলাদেশে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই ইবোলা দেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না- এ কথা শুধু মুখে বললেই হবে না, এর জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সম্পাদক,
ব্রেকিংনিউজ ডটকম ডটবিডি
বিজয় নগর, ঢাকা।



আপনার মন্তব্য

সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং