Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় 

অশুভের ধ্বংসে হোক মনুষ্যত্বের উদ্বোধন

অশুভের ধ্বংসে হোক মনুষ্যত্বের উদ্বোধন
মো. মাইনুল ইসলাম ০২ অক্টোবর ২০১৪, ২:৫৬ অপরাহ্ন Print

অক্টোবর মাসটি দেশবাসীর জন্য উৎসবের, আনন্দের মাসে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি পূজা ও ঈদ যেন আমাদের আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির রূপটিকেই প্রকাশিত করছে। একদিকে অশুভ শক্তির প্রতীক অসুরকে বধ করে শুভকে প্রতিষ্ঠা করতে দেবী দুর্গা নেমে এসেছেন মর্ত্যে, অন্যদিকে আমাদের ভিতরের পশুত্বকে ধ্বংস করে মনুষ্যত্বকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার প্রত্যয় নিয়ে আসছে ঈদুল আযহা। ফলে তাৎপর্য ও ভাবগত দিক দিয়ে এই পূজা ও ঈদের মধ্যে দারুণ সাদৃশ্য রয়েছে।

সনাতনধর্মীদের মহোৎসব দুর্গাপূজার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়ে যাবে ইসলাম ধর্মাবলম্বিদের সবচেয়ে বড় দু’টি ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদুল আযহা। বাংলাদেশে এই উৎসবটি কুরবানির ঈদ নামে পরিচিত। ঈদুল আযহা মূলত আরবী বাক্যাংশ। এর অর্থ হলো ত্যাগের উৎসব। এ দিনটিতে মুসলমানেরা তাদের সাধ্যমতো ধর্মীয় নিয়মানুযায়ী পশু কুরবানি দেয়। আল্লাহর রাস্তায় কুরবানি দিয়ে তাকওয়া অর্জনই এর মূল লক্ষ্য।

আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যে কুরবানীর এক রীতি-পদ্ধতি নির্ধারণ করেছি, যেন তারা ঐসব পশুর উপর আল্লাহর নাম নিতে পারে। যে সব তিনি তাদেরকে দান করেছেন।’ (সূরা হজ্ব: ৩৪ আয়াত)

কুরবানি শব্দের উৎপত্তি কুরবান শব্দ থেকে। কুরবান শব্দের অর্থ নৈকট্য, সান্নিধ্য, উৎসর্গ। সুতরাং কুরবানি অর্থ উৎসর্গ করার মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য লাভ করা। মানব ইতিহাসে সর্বপ্রথম কুরবানি হলো হযরত আদম (আ.) -এর দুই পুত্র হাবিল ও কাবিলের কুরবানি। এই কুরবানির বর্ণনা অবশ্য কোনো গ্রন্থে পাওয়া যায় না। তবে উন্মতে মুহাম্মাদীর মধ্যে যে কুরবানি চালু আছে তা হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর নিজপুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কুরবানি দেয়ার সাথে সম্পর্কিত।

প্রকৃতপক্ষে কুরবানির ইতিহাস ততটাই প্রাচীন যতটা প্রাচীন দ্বীন-ধর্ম অথবা মানবজাতির ইতিহাস। মানবজাতির জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে যত শরীয়ত নাযিল হয়েছে, প্রত্যেক শরীয়তের মধ্যে কুরবানি করার বিধান ছিল। প্রত্যেক উম্মতের ইবাদতের এ ছিল এক অপরিহার্য অংশ।

কুরবানি এমন এক সংকল্প, দৃঢ় বিশ্বাস, আত্মসমর্পণ ও জীবন দানের বাস্তব বহিঃপ্রকাশ, যা বলে, মানুষের কাছে যা কিছু আছে তা সবই আল্লাহর এবং তারই পথে তা উৎসর্গীকৃত হওয়ার জন্য সদা প্রস্তুত। এটা এ সত্যেরও নিদর্শন যে, আল্লাহর ইংগিত হলেই বান্দা তার রক্ত দিতে দ্বিধা করে না। হযরত ইব্রাহীম (আ.) মূলত তা-ই প্রমাণ করেছেন। বস্তুত এভাবে আত্মসমর্পণ ও জীবন বিলিয়ে দেয়ার নামই হলো ঈমান, ইসলাম, ও ইহসান।

আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘মনের পশুরে কর জবাই’। কুরবানির প্রকৃত তাৎপর্যটি এখানেই নিহিত রয়েছে। শুধু বনের পশুকে কুরবানি করলেই চলবে না, মনের পশুকেও কুরবানি করতে হবে। অর্থাৎ প্রতীকীভাবে পশু কুরবানির মাধ্যমে আমাদের ভিতরের পশুত্বকে দূরীভূত করে মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করাই কুরবানির মূল প্রতিপাদ্য। নফসের আনুগত্য ত্যাগ করে আল্লাহর একান্ত অনুগত হওয়ারই মহান শিক্ষা দেয় কুরবানি। আমরা যদি কুরবানি থেকে এই শিক্ষা গ্রহণ করি তবে তা মানবজাতির জন্য মঙ্গলই বয়ে আনবে।

অশুভের ধ্বংসে হোক মনুষ্যত্বের উদ্বোধন- এটাই আমাদের এ সময়ের কামনা। সবাইকে দুর্গাপূজা ও ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা।

সম্পাদক,
ব্রেকিংনিউজ ডটকম ডটবিডি
বিজয় নগর, ঢাকা।



আপনার মন্তব্য

সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং