Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় 

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার আলোক বর্তিকা

সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার আলোক বর্তিকা
মো: মাইনুল ইসলাম, সম্পাদক ০২ ডিসেম্বর ২০১৩, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন Print

আমাদের নাগরিক জীবন যখন হরতাল, অবরোধ, বিক্ষোভ,সমাবেশ ও ভাংচুর নামক রাজনৈতিক শব্দে বন্দি ঠিক তখনই সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার আলোক বর্তিকা হাতে নিয়ে গণমানুষের সেবায় যাত্রা শুরু হলো BreakingNews-bd.com || BreakingNews.com.bd অনলাই নিউজ পোর্টাল। ‘যখনই ঘটনা তখনই সংবাদ’ স্লোগানে মানুষের অজানা সত্যকে হুবহু জানাতে, ঘুণে ধরা সমাজের কুসংস্কারের কফিনে শেষ পেরেকটি বিদ্ধ করতে একদল তরুণ সংবাদ কর্মীকে সাথে নিয়ে শুরু হলো এ পথ যাত্রা। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে পৃথিবীর আনাচে কানাচে ঘটে যাওয়া ঘটনা হুবহু তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা সংবাদকে তৈরি করি না, আমরা ঘটে যাওয়া ঘটনার নিরপেক্ষ বর্ণনা করি মাত্র। পক্ষ বিপক্ষ থাকবে, তবু সত্যকে অবিকৃতভাবে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব বলে মনে করি। প্রশ্ন জাগতে পারে বাজারে এত গুলো অনলাইন নিউজ পোর্টাল থাকতে আবার কেন একটি? আদিম যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত মানুষ জীবন যাপনকে সহজ ও সুন্দর করতে প্রতিনিয়ত খুঁজে গেছে বিকল্প। গুহাযুগেও মানুষ জীবন যাপন করতো, কিন্তু তবু কেনো চাকা আবিস্কারের প্রয়োজনীয়তা বোধ করল তারা? সে থেকেই শুরু মানব জাতির অগ্রগতির ইতিহাস। তারপরও কী কখনো থেমে গেছে মানুষের বিকল্প খোঁজার স্বভাব। আমাদের ভোগবাদী সমাজের গণমাধ্যম যখন পক্ষপাতিত্য, দলবাজি, ব্যক্তি স্বার্থে প্রণোদিত এবং বিজ্ঞাপনের আধিক্যে আক্রান্ত, বিকৃত সংবাদ পরিবেশনে সমাজকে করে ফেলেছে ননীর পুতুল। হাপিয়ে তুলেছে সমাজের শুভ বোধ সম্পন্ন মানুষকে, তখন নতুন কিছু সংবাদপত্র ও অনলাইন মাধ্যম সবার আগে সংবাদ পৌঁছে দেবার কথা বলে প্রদর্শন করেছে পূর্বসুরীদের মতো চেনা সে চরিত্র। হলুদ সাংবাদিকতায় ব্যক্তি স্বার্থকে কায়েম করতে গিয়ে গণমানুষের সত্য জানার আগ্রহকে গলা টিপে হত্যা করেছে। ঠিক সে সময়ে সত্য ঘটনার নির্ভিক কথকের ভূমিকায় আমরা দিতে চাই মানুষকে সর্বশেষ ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ননা। আর এখানেই নতুন বিকল্প, আমাদের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক অ্যারিস্টটল বলেছেন, ‘মানুষ রাজনৈতিক জীব’। সেই রাজনৈতিক জীব মানুষের জীবনে রাজনীতির বাইরেও কিছু আবশ্যিক বিষয় আছে, আছে তার ধর্ম, সংস্কৃতি, সমাজ, জীবনাচার। রাজনীতি ও ধর্ম মানুষের জীবনের কতটুকু জায়গাকে দখল করবে, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। ইউরোপে সে বিতর্কের অবসান হয়েছে রাজনীতি ও ধর্মকে পৃথক করার মাধ্যমে। সেখানে রাষ্ট্র ও চার্চ এখন আর পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয় সহযোগী। ইউরোপীয় সভ্যতার নবীন জাতক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উদার গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ মেনে নিয়েও ডলারের ওপর ঈশ্বরের মহিমা লিপিবদ্ধ করেছে এবং সে দেশের প্রেসিডেন্টকে বাইবেল স্পর্শ করে শপথ নেয়ার বিধি-বিধান প্রতিষ্ঠা করেছে। অতএব, ধর্ম ও রাজনীতি পৃথক হলেও, কেউ কাউকে ছেড়ে যাচ্ছে না। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেই হোন না কেন, বড়দিনে খ্রিস্টানদের, ঈদে মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানানোর রীতি বহু পুরনো। এই রাষ্ট্রকৃত্যে ধর্ম কতটুকু আর রাজনীতি কতটুকু, সেটা অবশ্য অন্য বিতর্কের বিষয়। আপাতত সে বিতর্কে আমরা যাচ্ছি না। আমরা বলি আমরাও রাজনৈতিক আর্দশে দিন যাপন করি। কিন্তু বিষয়টি যখন সংবাদ পরিবেশনের তখন আমরা অবশ্যই নিজেদেরকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা কর্তব্য বলে মন করি। তাই আমরা সংবাদ সংগ্রহকারীদের সাংবাদিক বলি না, বলি সংবাদ কর্মী। যারা সর্বশেষ ঘটে যাওয়া ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে পাঠকের সামনে তুলে ধরবে হুবহু। তাই আমাদের পথ চলা যেমন সত্য ও সুন্দরের পক্ষপাতহীন তেমনি অসুন্দর ও অশুভর ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ। এতোগুলো অনলাইন মাধ্যম থাকতে পাঠক কেনো আমাদের সংবাদ পড়বে? পড়বে, কারণ আমরা সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলি, সত্যেরে সাথে সন্ধি, সুন্দরের সাথে মিতালী, সময়কে ধারণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আর দুষ্টের সাথে নিরপেক্ষ। আমাদের গন্তব্য মানুষের প্রযত্নে ও গণমানুষের শান্তিতে শুভ্রতায়।

সবাইকে শুভেচ্ছা। আশা করি সাথেই থাকবেন।



আপনার মন্তব্য

সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং