Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » সম্পাদকীয় 

উপ-সম্পাদকীয়

আ.লীগ প্রশাসন সরকার মিলেমিশে একাকার!

আ.লীগ প্রশাসন সরকার মিলেমিশে একাকার!
২০ এপ্রিল ২০১৪, ১০:১০ পূর্বাহ্ন Print

একটি দেশের সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে তখন সে আর বিশেষ কোনো দলের থাকে না। সমস্ত সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠে সরকারকে হতে হয় সর্বদলের তথা সকল জনগণের। গণতান্ত্রিক দেশে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম কিংবা রীতি। আর এটা বুঝতে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই, কাণ্ডজ্ঞানই যথেষ্ট।

কিন্তু এই কাণ্ডজ্ঞানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আমাদের সরকারগুলো হয়ে ওঠে দলঅন্তপ্রাণ! প্রশাসনে চলে ব্যাপক দলীয়করণ। বর্তমান সরকারও এর ব্যতিক্রম নয়। তারাও 'স্বাভাবিক' উদার দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হতে পারেনি, পারছে না। এতে যে তারা নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই ডেকে আনছে তা বলা বাহুল্য হলেও বলতে হচ্ছে।

কেননা স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ, প্রশাসন ও সরকারের আলাদা কোনো চরিত্র নেই, পরিচয় নেই। একমাত্র দলীয় পরিচয়ই যেন প্রশাসন ও সরকারের পরিচয়। শাসক আওয়ামী লীগ হারিয়ে গেছে সরকারে। সরকার একাকার হয়ে গেছে আওয়ামী লীগে। অন্যদিকে প্রশাসন যেন হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের ক্যাডারভিত্তিক একটি 'অঙ্গ সংগঠন'! জনসমর্থন নয় বরং এ দলীয় প্রশাসনের কাঁধে বন্দুক রেখেই ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে সরকার।

১৮ জানুয়ারি শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির এক বৈঠকে দলের তৃণমূলকে ঢেলে সাজাতে কেন্দ্রীয় নেতাদের নিদের্শ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, 'বিগত সরকারের আমলে সরকারের মন্ত্রিসভায় দলের দায়িত্বশীল নেতাদের আধিক্য থাকায় দল ও সরকার একাকার হয়ে গিয়েছিল। এবার দল ও সরকার একাকার হতে দিইনি। দলের নেতারা যাতে সংগঠনের জন্য কাজ করতে পারে সেজন্য তাদেরকে ফ্রি রাখা হয়েছে।'

আসলেই কি তাই? অবস্থাদৃষ্টে তো তা মনে হয় না। মন্ত্রীসভায় কি এবার দলের দায়িত্বশীল নেতারা বিরল? তারা কি এ সরকারকে আওয়ামী লীগ বানিয়ে ফেলেননি?

প্রশাসনে বেআইনী যে কোন নিয়োগই দেশ ও জাতির জন্য অকল্যাণকর। আমাদের দেশে যেভাবে রাজনৈতিক বিচেনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ভারতের কোথাও তা সম্ভব নয়।

এ থেকে মুক্ত নয় বিচার প্রশাসনও। প্রায় ১৭০ জন জ্যেষ্ঠ জেলা জজকে ডিঙিয়ে বিচার প্রশাসনের শীর্ষ পদে আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক নামে এমন এক ব্যক্তির অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে এ সরকার, জেলা জজ হিসেবে যার নাকি একটি রায় লেখারও অভিজ্ঞতা নেই! শুধু প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্মতিতে তথাকথিত ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত’ আইনসচিব নিয়োগের ঘটনাও অবশ্য এই সরকারের আমলে এবারই প্রথম নয়।

একটু পেছনে ফেরা যাক। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে গণতন্ত্রের পথে দেশের নতুন অভিযাত্রা শুরু হয়। এই অভিযাত্রার অন্যতম অনুষঙ্গটি কি? সেটি হলো প্রশাসনকে দলীয়করণের মতো একটি জঘন্য কদাচার। এটি যেমন গণতন্ত্রকে মজবুত করেনি, তেমনি প্রশাসনকেও। বরং মেধাভিত্তিক ও পেশাদার জনপ্রশাসন গঠনের পথে এটি হয়ে ওঠে বিশাল অন্তরায়। প্রশাসনকে দলীয়করণ করে প্রকৃতপক্ষে কেউ-ই লাভবান হয় না। বরং এই কু-প্রথার চর্চার ফলে এর সাথে জড়িত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর সর্বোত্তম কর্মকর্তাটির সর্বোৎকৃষ্ট সেবা থেকে বঞ্চিত হয় জনগণ।

জনপ্রশাসনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বহুল প্রত্যাশিত সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট প্রণয়নের কথা বাংলাদেশের সংবিধানে বলা থাকলেও তা এখনও হয়েই উঠল না! অবশ্য ৭ এপ্রিল সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট 'দ্রুত' প্রণয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। অ্যাক্টটি প্রণয়ন না হওয়ায় প্রশাসনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলে একাধিক সচিব প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিবেচনায় ঢালাওভাবে শূন্য পদের চাইতে অনেক বেশিসংখ্যক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া জনপ্রশাসনে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির একটি উপাদান। এ ধরনের পদোন্নতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক মেধাবী কর্মকর্তাকে দলীয় রং চড়িয়ে বছরের পর বছর ওএসডি করে রাখার প্রবণতাও পুরোপুরি বজায় রয়েছে। এটি জনপ্রশাসনের জন্য অত্যন্ত কু-দৃষ্টান্ত এবং তা চাকরিতে তাদের উৎসাহ, উদ্দীপনা ও নৈতিক শক্তিকে ক্ষয় করে ফেলে।

সিভিল সার্ভিস বা জনপ্রশাসনের সদস্যরা কোনো দলের নয় এবং সেটা হওয়াই স্বাভাবিক। তাদের মধ্যে যখন কেউ দলবাজি করে তখন বুঝতে হবে তারা জনপ্রশাসনে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছে। জনপ্রশাসনকে দলীয়করণ, আঞ্চলিকতা ও স্বজনপ্রীতি থেকে মুক্ত করতে না পারলে দেশ ও জাতি তার অনেক আদি-ব্যাধি থেকে মুক্তি পাবে না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে।

সরকার ও প্রশাসনকে দলীয়করণের মতো কু-প্রথা বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন এবং গণতন্ত্রের অগ্রগতি কোনোটাই সম্ভব নয়। বরং এটি ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলোর জন্য বুমেরাং হয়েই দেখা দেয়। তাদের পতন দ্রুততর ও নিশ্চিত করে তোলে। সুতরাং, সাধু সাবধান!

ব্রেকিংনিউজ/এফই



আপনার মন্তব্য

সম্পাদকীয় বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং