Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » শুধুই ঢাকা 

রাজধানীবাসীর দীর্ঘ ভোগান্তির খানিকটা অবসান

রাজধানীবাসীর দীর্ঘ ভোগান্তির খানিকটা অবসান
প্রতিবেদক ৩০ মার্চ ২০১৬, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ন Print

ঢাকা: দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর খুলে দেয়া হচ্ছে মগবাজার-মৌচাক নিমার্ণাধীন ফ্লাইওভারের একটি অংশ। এতে রাজধানীবাসীর ভোগান্তির খানিকটা অবসান হতে চলেছে। তবে বাকি অংশ চলাচলের উপযোগী হতে সময় লাগবে প্রায় আরও একবছর।

জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টায় রাজধানীর সাতরাস্তা মোড় থেকে হলি ফ্যামিলি পর্যন্ত দীর্ঘ ২ কিলোমিটার এই অংশটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পর থেকেই যান চলাচলের জন্য ফ্লাইওভারটি খুলে দেয়া হবে।

এছাড়া বাকি দুই অংশসহ পুরো ৮ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাইওভারটি ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে চালু হবে। মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী নাজমুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দ্বিতীয় ধাপে ফ্লাইওভারটির বাংলামোটর-মৌচাকমুখি লেনটি আগামী ডিসেম্বরে চালু হবে। এছাড়া শেষ ধাপে রাজারবাগ শান্তিনগরের দিকের অংশটি আগামী বছর জুনে খুলে দেয়া হবে। এরপর বাংলামোটর থেকে মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ হয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে গিয়ে শেষ হবে। আরেকটি ধাপে রামপুরা রোড থেকে মৌচাক হয়ে শান্তিনগর গিয়ে শেষ হবে।

১ হাজার ২১৮ দশমিক ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)।

প্রকল্প সূত্র জানায়, ৮ দশমিক ২৫ কিলোমিটার এ ফ্লাইওভারটি রিখটার স্কেলে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয়। প্রতিটি পিলার ১৫০ মিটার গভীর। ফ্লাইওভারটির বিভিন্ন জায়গায় ৮টি বড় মোড় রয়েছে এবং ৩টি রেলক্রসিং রয়েছে।

বাংলামোটর থেকে শুরু হয়ে মৌচাক পর্যন্ত দুই দশমিক দুই কিলোমিটার ফ্লাইওভারের পিলার ও পাইলিংয়ের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ফ্লাইওভারের ওপরের অংশ নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ।

৩ লেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভারটিতে ওঠানামার জন্য ৮টি পথ থাকবে। এতে ফ্লাইওভার থেকে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামোটর, মগবাজার, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং শান্তিনগর মোড়ে ওঠানামা করা যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মগবাজার-মৌচাক ও মৌচাক-হাজিপাড়া-কাকরাইল ফ্লাইওভার প্রকল্প দু’টি গত ২০১১ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হয়। যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৪ সালের নভেম্বরে। তবে ড্রয়িং-ডিজাইনসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি সরবরাহে সমন্বয়ের অভাব ও শুরুর নকশা পরিবর্তন করায় অতিরিক্ত আরও ২ বছর সময় লাগছে।

প্রথমে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি টাকা। যা পরবর্তীতে বাড়িয়ে হাজার কোটি টাকার ওপর নির্ধারণ করা হয়।

এলজিইডির সূত্র জানায়, ৮ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ফ্লাইওভার নির্মাণে প্রথমে মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন রয়েছে ২০০ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা। এছাড়া সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) থেকে ৩৭৫ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা ও ওপেন ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) থেকে ১৯৬ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা ঋণ হিসেবে নেয়া হয়।

এদিকে প্রকল্প অনুমোদিত থেকে প্রায় ৪৪৬ দশমিক ১৯ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ২১৮ দশমিক ৮৯ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ৪৪৬ দশমিক ১৯ কোটি টাকা খরচের মধ্যে জিওবি ব্যয় ২৪১ দশমিক ২৬ কোটি টাকা, পরামর্শক বাবদ ব্যয় ১৬ কোটি টাকা এবং ফ্লাইওভার নির্মাণ বাবদ ২৫৭ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এছাড়া তেজগাঁও-পান্থপথ লিংক রোড এফডিসি গেটের পরিবর্তে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত ৪৫০ মিটার ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এতে করে সোনারগাঁও হোটেল পর্যন্ত যাচ্ছে ফ্লাইওভারটি। এ খাতে ৮৫ লক্ষ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় ৮ দশমিক ৭০ কিলোমিটার ফ্লাইওভার, ৩ হাজার ৮৪৩ দশমিক ৭০ বর্গমিটার অবকাঠামো নির্মাণসহ দু’টি ডাবল কেবিন পিকআপ কেনা হয়। এছাড়া ৪০ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে।

২০১৬ সালের ডিসেম্বরে এর নির্মাণ কাজ শেষে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার কথা ছিল। এখন ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/এইচএস



আপনার মন্তব্য

শুধুই ঢাকা বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং