Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » দেশ জুড়ে 

কলারোয়া সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

কলারোয়া সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট
জুলফিকার আলী ০৩ এপ্রিল ২০১৬, ৬:২৪ অপরাহ্ন Print

সাতক্ষীরা: কলারোয়ায় সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে দলিল লেখকরা। সাব-রেজিষ্ট্রারের লাগামহীন ঘুষ ও দুর্ণীতির প্রতিবাদে কলারোয়া দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা জরুরী সভা ডেকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

এদিকে ধর্মঘট চলায় বায়না দিয়ে দলিল না হওয়ায় জমির ক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে। রেজিষ্ট্রি অফিসের সকল কাজ বন্দ থাকায় সরকারও হারাচ্ছে রাজস্ব। ঘুষ নিয়ে বিরোধে জড়ানোর কারনে সাব রেজিষ্টারের উপর ক্ষোভ ঝেড়েছেন গ্রামাঞ্চল থেকে থেকে আসা জমির ক্রেতা-বিক্রেতাও।

জানা গেছে, বর্তমানে কলারোয়ায় জমির দলিল রেজিষ্ট্রি করার জন্য কোন সাব রেজিষ্টার নেই। এ অবস্থায় সাতক্ষীরার দেহহাটা উপজেলার সাব রেজিষ্টার নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল সপ্তাহের ২দিন (রবি ও সোম বার) কলারোয়া এসে জমি রেজিষ্ট্রি কাজ সম্পাদন করে থাকেন। গত জানুয়ারী মাসের ২৪ তারিখ থেকে তিনি এখানে অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত আছেন।

কলারোয়া দলিল লেখক সামিতির সভাপতি আবু বক্কর ছিদ্দিক জানান, সাব-রেজিষ্ট্রার নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল কলারোয়ায় আসার পর সারা দিন যত লাখ টাকার দলিল হবে তার উপর ভিত্তি করে লাখে এক হাজার করে টাকা ঘুষ দাবি করেন। স্থায়ী ভিত্তিতে সাব রেজিষ্টার না আসা পর্যন্ত জন দুর্ভোগ স্বীকার করে দলিল লেখক সমিতি তা মেনে কাজ করে আসছিলেন। সম্প্রতি নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল প্রতি দলিলে আরো বেশী টাকা ঘুষ দাবি করেন। রাজি না হওয়ায় দলিলে বিভিন্ন রকম ক্রুটি দেখিয়ে জামির দাতা গ্রহীতাদের সামনে দলিল লেখকদের হয়ারনীসহ গালমন্দ করে আসছেন।

গত চার দিন আগে ঘুষ না দেয়ায় প্রবীন দলিল লেখক দাউদ আলীকে সাব-রেজিষ্ট্রার নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল তার অফিস কক্ষে শাররীকভাবে লাঞ্চিত করেন।

তিনি আরো জানান, জমির দাতা ও গ্রহীতাদের কাছ থেকেই ঘুষের টাকা আদায় করে তা সাব রেজিষ্টারকে দিতে হয়। উপজেলার রামভদ্রপুর গ্রামের জমি ক্রেতা মো. হেলাল আনছারী জানান, তিনি একটি জমি আদালতের রায়ে মালিক হয়েছেন। পরে ওই জমির নাম পত্তনসহ রেকর্ড সংশোধন করে জমির দাখিলাও (খাজনা) দিয়েছেন। কিন্তু বিক্রয়কালে ওই জামিতে ক্রুটি আছে বলে কলারোয়া সাব-রেজিষ্ট্রার জমিটি রেজিষ্ট্রি করে দেননি। পরে তাকে আলাদাভাবে খাস কামরায় ডেকে সাব রেজিষ্ট্রার নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল ৩০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে বলেন টাকা দিলে জমি রেজিষ্ট্র হবে।

কলারোয়া দলিল লেখক সমিতির সম্পাদক রশিদুর রহমান খান চৌধুরী জানান, সাব-রেজিষ্ট্রার মক্কেলদের (ক্রেতা-বিক্রেতা) সামনে তাদেরকে অসম্মান করে আসছেন। তিনি ঘুষখোর কর্মকর্তা। গত আড়াই মাসে সমিতি থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা তাঁকে ঘুষ প্রদান করেছে।

এসব টাকা তারা জমির দাতা ও গ্রহীতাদের কাছ থেকে জুলুম করে আদায় করে সাব-রেজিষ্ট্রারকে প্রদান করেছেন। তিনি দুর্নীতিবাজ এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

কলারোয়া সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের প্রধান সহকারী গোবিন্দ চন্দ্র ঘোষ জানান, খন্ডকালীন দায়িত্ব পালনকারি বর্তমান সাব-রেজিষ্ট্রার নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল গত প্রায় আড়াই মাসে ক্রেতাদের অনুকুলে ৯৫১টি দলিল সম্পাদন করেছেন। দলিলের সর্বনিন্ম মূল্য ৬০ হাজার টাকা থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূল্যমান নির্ধারিত হয়েছে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সাব-রেজিষ্ট্রার নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডল তার কর্মস্থলে (কলারোয়ায়) দলিল লেখকদের কর্মবিরতী চলার কথা স্বীকার করে বলেন, মহুরিদের দাবি সঠিক নয়। তিনি ঘুষের টাকা গ্রহণ করেননা জানিয়ে বলেন, তিনি বাংলাদেশের সাব রেজিষ্ট্রি অফিসকে ডিজিটালইজড করতে চেয়েছিলেন। এখানকার মহুরিরা আইন জানেনা তাই তার উপর তারা ক্ষিপ্ত।

এ ছাড়া মহুরিদের দবি জমির শ্রেনী পরিবর্তন করলে বা জামির দাখিলা না দিলেও জমি রেজিষ্ট্রি করে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, নন গেজেটেড ডিপি খতিয়ানের জমি রেজিষ্ট্রি না করায় দলিল লেখকরা তাঁর উপর নাখোশ হয়ে ধর্মঘট ডেকেছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ



আপনার মন্তব্য

দেশ জুড়ে বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং