Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

বুধবার ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » দেশ জুড়ে 

দৃক গ্যালারির কর্মকর্তার নিখোঁজের পর না.গঞ্জে লাশ উদ্ধার

দৃক গ্যালারির কর্মকর্তার নিখোঁজের পর না.গঞ্জে লাশ উদ্ধার
শওকত এ.সৈকত ০৩ এপ্রিল ২০১৬, ৫:৪৪ অপরাহ্ন Print

নারায়ণগঞ্জ: রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে দৃক গ্যালারির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইরফানুল ইসলাম নিখোঁজের একদির পর নারায়ণগঞ্জ থেকে লাশ উদ্ধার হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২টায় নগরীর মন্ডলপাড়ায় অবস্থিত ১শ ৫০শয্যা বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে এসে শনাক্ত করেছেন তার বড় ভাই নওশাদুল ইসলাম ও প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক রেজাউর রহমান। দুপুর আড়াইটায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর পরিবারের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: আসাদুজ্জামান ময়না তদন্ত শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ধারণা করা হচ্ছে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান ও পরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হতে পারে। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

দৃক গ্যালারীর মহা-ব্যবস্থাপক রেজাউর রহমান জানান, শনিবার দুপুরে ধানমন্ডির ৮নম্বর সড়কে অবস্থিত ডাচবাংলা ব্যাংকের শাখা থেকে তিন লাখ টাকা তুলে নিখোঁজ হন ইরফানুল ইসলাম। দুপুর ১২টা থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেলে রাজধানীর কলাবাগান থানায় তারা জিডি করেন। পরে আজ সকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তারা নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে জেনারেল হাসপাতাল মর্গে এসে লাশ শনাক্ত করেন।

আজ রবিবার দুপুর ১২টায় ইরফানুল ইসলামের সহকর্মীরা ও পরিবারের স্বজনরা নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে এসে লাশ শনাক্ত করে এবং পরিবারের লোকজনকে খবর দিলে নিহতের ভাই ইমদাদুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান ইরফানুল ইসলাম দৃক গ্যালারীর প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির জন্মলগ্ন থেকেই তিনি এখানে কর্মরত ছিলেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবীসহ দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী জানান।

ইরফানুল ইসলামের বড় ভাই নওশাদুল ইসলাম ইমরান জানান, ইরফানুল ইসলামের একমাত্র ছেলে দশম শ্রেণীর ছাত্র। আগামী বছর সে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। ইরফানুল ইসলামের একমাত্র আয়ের উপরই তাদের পরিবার নির্ভরশীল ছিলো। তিনি স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর ঝিগাতলায় থাকতেন। তাদের বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া থানার লোহাগড়া এলাকায়।

এর আগে শনিবার বিকেলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার জালকুড়ি এলাকায় ফিরোজ ফিলিং স্টেশনের বিপরীত পাশে একটি ঝুটের গোডাউনের সামনে ঝোপের নীচ থেকে অজ্ঞাত হিসেবে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

ওই ঝুটের গোডাউনের প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানান, শনিবার দুপুরে বাসা থেকে লাঞ্চ সেরে ২টার দিকে তারা ওই স্থানে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে। তারা ধারণা করেছিল যেহেতু এই সড়কে প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটে থাকে সেহেতু ওই ব্যক্তিটির মৃত্যু সড়ক দূর্ঘটনায় হয়ে থাকতে পারে। লাশটি কিছুক্ষণ পড়ে থাকার পর স্থানীয় লোকজন এসে জড়ো হয়। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোখলেছুর রহমান জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জর লিংক রোডের পাশে জালকুড়ি এলাকায় শনিবার বিকেলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসি পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। নিহতের শরীরে হলুদ পাঞ্জাবী ও সাদা রংয়ের প্যান্ট পড়নে ছিল। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ইরফানুল ইসলামের সাথে থাকা টাকা লুটে নেয়ার জন্য একটি চক্র ঢাকায় ব্যাংক থেকেই তার পিছু নিয়ে থাকতে পারে। পরে তার টাকা লুটে নিয়ে হত্যা করে নারায়ণগঞ্জে এসে ফেলে রেখে যেতে পারে।

তিনি জানান, শনিবার লাশটি উদ্ধারের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত হিসেবে মামলা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের কোন অপরাধী চক্র এই ঘটনার সাথে জড়িত আছে কিনা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে।

ব্রেকিং নিউজ/এমএইচ



আপনার মন্তব্য

দেশ জুড়ে বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং