Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

সোমবার ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » দেশ জুড়ে 

ঠিকাদার গ্রেফতার

থানা ঘেরাও নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়রের (ভিডিওসহ)

থানা ঘেরাও নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়রের (ভিডিওসহ)
ছবি: ব্রেকিংনিউজ
শওকত এ সৈকত ৩১ মার্চ ২০১৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ন Print

নারায়ণগঞ্জ: ঠিকাদারকে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে এলাকাবাসীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা রাত সাড়ে ১০টা থেকে ঘেরাও করে অবস্থান করছেন সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভি।

বুধবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে মেয়র প্রথমে থানার ভেতরে অবস্থান করেন। পরে রাত দু’টায় থানার সামনে অবস্থান নেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তিনি এলাকাবাসীকে নিয়ে থানা ঘেরাও করে অবস্থান করছেন।

মেয়রের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের নির্মাণাধীন পার্কের কাজ বন্ধ করতে একটি মহল প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার জাকির হোসেনকে অকারণে গ্রেফতার করেছে।

তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রেলওয়ের মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে সংবাদকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহের জন্য থনায় গেলে পুলিশ তথ্য সংগ্রহে বাধা দেয় এবং রহস্যজনক কারণে সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণ করেন পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টার দিকে নগরির পুরাতন কোর্ট এলাকায় অবস্থিত রত্না ও আব্দুল মতিন এন্টারপ্রাইজের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে ঠিকাদার জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এ সময় গ্রেফতারের কারণ জানতে চাইলে পুলিশ জানায়, রেলওয়ের এস্টেট অফিসের কানুনগো ইকবাল মাহমুদের দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ওই মামলায় দু’জনকে আসামি করা হয়। প্রথম আসামি সিটি করপোরেশনের আরেক ঠিকাদার আবু সুফিয়ান। দ্বিতীয় আসামি জাকির হোসেন।

মামলায় অভিযোগে বলা হয়, গত ২৭ মার্চ মামালার আসামিরা অবৈধভাবে রেলওয়ের ৯ দশমিক ৯ একর জমিতে পার্ক নির্মাণ করছে। আরও বলা হয়, রেলওয়ের প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা মূল্যের সম্পত্তি তারা বিনষ্ট করেছে। ইতিমধ্যে তারা রেলওয়ের স্লিপার, গাছপালাসহ প্রায় ৫ লক্ষ টাকা মূল্যের সম্পত্তি চুরি করে নিয়ে গেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এ মামলা দায়ের করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বুধবার রাত পৌনে একটায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, যদি কোনও অপরাধ হয়ে থাকে সেটা আমি করেছি। আমি এ পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। কোনও মামলা হলে তা আমার বিরুদ্ধে হবে। এরপর মামলায় প্রথম আসামি করা হয়েছে আমার কর্মী ঠিকাদার সুফিয়ানকে। মামলা করতে হলে আমার পরে আসে ঠিকাদার। সুফিয়ান এ প্রকল্পের ঠিকাদার না। অথচ তাকে মামলার প্রথম আসামি করা হয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায় বিষয়টি রাজনৈতিক।

তিনি বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল রেলওয়ের এক কর্মকর্তা ও পুলিশ দিয়ে এ কাজ করিয়েছে। রেলওয়ের সচিব আমাকে জানিয়েছেন, তিনি এ মামলার ব্যাপারে জানেন না। রাত হওয়ায় আমি রেলমন্ত্রীকে টেলিফোনে পাচ্ছি না। আমি এই ঠিকাদারকে থানা থেকে না নিয়ে যাবো না। বারবার অন্যায় সহ্য করবো না।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)আব্দুল মালেক এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রেলওয়ের মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এখানে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।

এ সময় মেয়রের পাশাপাশি সিটির কয়েক শত জনতা নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সামনে অবস্থান করছিলেন। সময় গড়ানোর সাথে রাতে থানার পাশে লোকজনের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

এদিকে এ সংবাদ সংগ্রহে গেলে প্রথমে পুলিশ তথ্য সংগ্রহে বাধা দেয়। পরে তারা সাংবাদিকদের ভিডিওচিত্র ধারণ করে। এ নিয়ে পুলিশের সাথে সাংবাদিকদের বাকবিতণ্ডা হয়।

উল্লেখ্য, নগরীর দেওভোগ এলাকায় প্রাথমিকভাবে প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে সিটি করপোরেশনের এ পার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রায় ৩ মাস আগে পার্কের কাজ শুরুর পর থেকেই জোলার একটি প্রভাবশালী মহল এ পার্ক নির্মাণের বিরোধীতা করে আসছে।



ব্রেকিংনিউজ/এইচএস



আপনার মন্তব্য

দেশ জুড়ে বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং