Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » অর্থনীতি 

স্বাধীনতার ৪৫ বছর: উন্নয়নের পাশাপাশি রয়েছে অপ্রাপ্তিও

স্বাধীনতার ৪৫ বছর: উন্নয়নের পাশাপাশি রয়েছে অপ্রাপ্তিও
জোনায়েদ মানসুর ২৪ মার্চ ২০১৬, ৭:২৭ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: দেশের স্বাধীনতার ৪৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে বৃহস্পতিবার। বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির জন্যে বড় ও শ্রেষ্ঠ অর্জন এই স্বাধীনতা। পাকিস্তানের ২৩ বছরে শোষণ-বঞ্চনা শেষে শূন্যহাতে পথচলা শুরু করে বীরের জাতি। আজ এ জাতির স্বাধীনতার ৪৫ বছরের ইতিহাসে দেশের অর্থনীতিতে এসেছে নানা পরিবর্তন। নিম্নবিত্ত থেকে নিম্ন মধ্যবিত্ত কাটিয়ে মধ্যবিত্ত প্রবেশের দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এক কথায় বলা চলে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ ব্রেকিংনিউজকে বলেন, অর্থনীতির প্রত্যাশা কিছুটা তো পূরণ হয়েছেই। বলতে ভালো করেছে, আরও ভালো করতে পারবো, কিন্তু তা পারেনি কিছুটা রাজনৈতিক অস্থিরতা, আর কিছুটা পলিসির কারণে। আমাদের জিডিপি’র গ্রোথ সাড়ে ৭-৮ শতাংশ থাকার কথা ছিলো। সেখানে জিডিপি সাড়ে ৬ শতাংশে আটকে আছে। ব্যাংকিং অবস্থা খারাপ না। তবে বেশি বেসরকারি ব্যাংক হয়ে গেছে। আর ব্যাংলাদেশে ব্যাংকে যা ঘটে গেছে তা অবিশ্বাস্য। যা জীবনে ঘটেনি তাই ঘটেছে। এটা কেউ আশা করেনি। শেয়ারবাজার যেখানে থাকার কথা ছিলো, সেখানে নেই। কৃষি জমি সঙ্কুচিত হচ্ছে। এখন অল্প জমিতে বেশি ফলন ফলাতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ ব্রেকিংনিউজকে বলেন, স্বাধীনতার পর অর্থনীতির মুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আর তলাবিহীন জুড়িতে নেই। যে কথাটা প্রচলিত ছিল সেটা আজ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তখন সাড়ে ৭ কোটি জনগণের স্থলে আজ ১৭ কোটি জনগণ। রেমিট্যান্স বেড়েছে, রপ্তানি বেড়েছে, বেড়েছে কর্মসংস্থান। এগুলো প্রমাণ করে অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আরও উন্নয়ন হতো যদি আমাদের দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকতো। দেশে যদি সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় তাহলে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত ও টেকসই হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) অতিরিক্ত পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, বিভিন্ন পর্যায় পার হয়ে আসছি। দেশে বাজার থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ আটকে আছে। নতুন নতুন চাহিদা মেটাতে দেশীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও প্রয়োজন। এ জন্যে সরকারকে বেশি উদ্যোগী হতে হবে। মধ্যম আয়ের দেশে যেতে হলে আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। দেশের এখন অনেক চাহিদা রয়েছে। এ চাহিদা মেটাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করতে হবে। আমাদের পণ্যের গুণগতমান উন্নয়ন, সম্প্রসারণ পাশাপাশি দেশের বাজার ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা ব্যাপক। আর এসব চাহিদা মেটাতে গবেষণা জরুরি।

গত কয়েক বছর বিনিয়োগ স্থবিরতার পেছনে আর্থ-সামাজিক অস্থিতিশীলতাকে প্রধানত দায়ী বলে মনে করেছে সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। দেশে প্রত্যাশিত হারে বিনিয়োগ না বাড়ার জন্য কয়েকটি বিষয়কে দায়ী করেন তিনি। এগুলো হলো- গ্যাস, বিদ্যুৎ, জমি ও অবকাঠামোর অভাব এবং দুর্নীতির সমস্যা।

জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, আমি মনে করি, স্বাধীনতার ৪৫ বছরে গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটা বিরাট পরিবর্তন। গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি ও অকৃষির একটা সংমিশ্রণ ঘটেছে। অবকাঠামোর ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। এসব স্বীকার করে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, কৃষি হলো ভিত্তি আর অকৃষি হলো ইঞ্জিন। এত সব পরিবর্তনের পরও এখন যে রকম, সে রকমভাবেই চলতে থাকলে আমরা জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি করতে পারব না। এক্ষেত্রে আরও বড় বিনিয়োগ লাগবে।

স্বাধীনতার ৪৫ বছরে দেশের অর্থনীতির অবস্থা জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফিকেচারার অ্যান্ড এক্সপোটারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, অর্থনীতি অবস্থা ভালো। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা হচ্ছে। এটা ভালো করতে হবে। গার্মেন্ট শিল্প গ্রোথ আছে। উদ্যোক্তাদের ও শ্রমিকদের রক্তের বিনিময়ে হচ্ছে। এটি আমাদের ব্যবসা। এ থেকে বের হওয়া যায় না। এ জন্য সরকারকে এ খাতে নীতি সহায়তা চেয়েছি। আরএমজিতে শেখ হাসিনার সরকার নগদ সহায়তা দিয়েছিলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যারা রপ্তানি করছে, নতুন এ বাজারে টিকে থাকতে সরকারকে ২ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া উচিৎ।

তিনি বলেন, ২০২১ সালে সরকার ৬০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে চায়। এর মধ্যে ৫০ বিলিয়ন আরএমজি থেকে। এ মধ্যম আয়ে যেতে চাইলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন সরকার যে ভাবে চায় সে ভাবে হবে। প্রতিবছর গার্মেন্ট খাতে ২০ লক্ষ লোক কর্মসংস্থানে আসে। কর্মসংস্থান ও উন্নয়নকে প্রধান্য দিতে হলে শিল্প প্রতিষ্ঠান বাড়াতে হবে। আর তা বাড়াতে করপোরেট ট্যাক্স কমাতে হবে। সরকার সব জায়গায় থেকে ট্যাক্স পাচ্ছে, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরকার সোর্স ট্যাক্স ৩৫ কেটে নিচ্ছে। ব্যবসায়ীদের থেকে ব্যাংক ব্যবসা করছে, সরকার সেখান থেকে ট্যাক্স পাচ্ছে। গত বছর করপোরেট ট্যাক্স ৩৫ করেছে সরকার যা আগে ছিলো ১০ শতাংশ। এ করপোরেট ট্যাক্স ১০ শতাংশ সরকারকে করতে হবে। বিনিয়োগ বাড়াতে মূল জায়গাটায় থেকে ১০ শতাংশ রাখলে সরকারের ক্ষতি নেই। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারকে করপোরেট ট্যাক্স ১০ শতাংশ করার জোর দাবি জানাচ্ছেন তিনি।

বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) পরিচালক মঈন আহমেদ কিবরিয়া ব্রেকিংনিউজকে বলেন, গত ৪৪ বছরে এ দেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়েছে। তবে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে আরও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। এ জন্য জরুরি অবকাঠামো উন্নয়ন। এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও কৃষকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমানে বিশ্বের ৬৬টিরও বেশি দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে অন্তত ২০টির মতো দেশ রয়েছে যাদের বিনিয়োগ আরও বাড়াতে চায় দেশগুলো। গার্মেন্টস খাতে বিনিয়োগ করতে বিদেশি উদ্যোক্তারা এখন বাংলাদেশমুখী।

ব্যাংকিং খাত ও অর্থনীতিবিদরা আরও জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল। রপ্তানি আয় বাড়ছে, রপ্তানি পণ্যে যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন পণ্য। বর্তমানে বিশ্বের ১৯২টি দেশে বাংলাদেশ ৬৯২টি পণ্য রপ্তানি করে থাকে। যেখানে মোট রপ্তানির ৮০ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। বিশ্বের পোশাক শিল্পের বাজার দখল, ২০২১ সালে এ খাত থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয় করার লক্ষে করছে সংশ্লিষ্টরা। রেমিট্যান্স প্রবাহ, উৎপাদন বেড়েছে জনসংখ্যা অনুপাতে। ফলে খাদ্য ঘাটতির বদনাম আর নেই। দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, বিশেষ করে ২৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ দেশকে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে চলছে। দেশের মোট জাতীয় আয় ২১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, রপ্তানি আয় ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং রাপ্তানি ব্যয় ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশের বর্তমান বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৩৭ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করবে সরকার।

এদিকে ধ্বংস প্রাপ্ত অর্থনীতি নিয়ে পথ চলা শুরু হলেও বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি শক্তিশালী ভূমিকায় রয়েছে। স্বাধীনতার পর দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা বলতে বোঝানো হতো ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ৩টি বিশেষায়িত ব্যাংকের কার্যক্রমকে। আমানত ছিলো ৫২৪ কোটি টাকার মতো। এরপর ১৯৮৩ সালে এসে প্রথম বেসরকারি খাতে ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়। আর বর্তমানে দেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬টিতে। তবে পাশাপাশি বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি, সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারি, আনন্দ শিপইয়ার্ড, সুরুজ মিয়া গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপের কেলেঙ্কারি, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের অনিয়ম, অর্থচুরিরসহ সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও ধাক্কা খেয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ১৭৩ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পৌঁছেছে ২৮ বিলিয়ন ডলারে। শুধু তাই নয়, এ খাত হয়ে উঠেছে কর্মসংস্থানের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। স্বাধীনতার ৪৫ বছরে এসে দেশের ব্যাংকিং খাত তাই অনেকটাই পরিণত-বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশের অর্থনীতির আরও উন্নতির জন্যে অবকাঠামো উন্নয়ন, উৎপাদন বাড়ানো, রাস্তা-ঘাট সম্প্রসারণ, সেবা খাতে এগিয়ে আসা, আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, যথাযথো প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবহণ, কৃষি ও কৃষককে মূল্যায়িত করতে বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের মাত্র ৩৪ কোটি মার্কিন ডলারের রফতানি আয় ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পৌঁছেছে প্রায় ৩ হাজার ২শ' কোটি ডলারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামীতে মধ্যম আয়ের দেশের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে এখন নজর দিতে হবে নতুন বাজার সৃষ্টি ও রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের দিকে। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় স্থান। সত্তরের দশকে মাত্র ১৩৫ ডলার মাথাপিছু আয় করা বাংলাদেশে এখন হাজার ডলারের পথ পাড়ি দিয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩১৪ ডলারে। ২০২১ সাল হবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর। বছরটি বাংলাদেশ উদযাপন করতে চায় মধ্যম আয়ের দেশ হয়ে। বিশ্বব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে ২০১৫ সালে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের সারিতে নিয়ে আসা হয়েছে। যদিও মাথাপিছু আয়ের হিসেবে ২০১৩ সাল থেকেই নিম্ন মধ্যম আয় করছে বাংলাদেশ। মাথাপিছু আয়ের এই হিসাবে (নমিনাল) বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন পৃথিবীতে ৫৮তম বড় অর্থনীতির দেশ। আশির দশকেও আমাদের প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশের ঘরে। বর্তমানে তা ৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় স্থান। সত্তরের দশকে মাত্র ১৩৫ ডলার মাথাপিছু আয় করা বাংলাদেশে এখন হাজার ডলারের পথ পাড়ি দিয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩১৪ ডলারে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৯৭২ সালে দেশের মোট বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৫৭৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের জুন শেষে তা প্রায় ৮শ’ গুণ বেড়ে ৫ লক্ষ ১৩ হাজার ৬৩৯ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। ২৫০ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায়রে লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। স্বাধীনতার ৪৪ বছরেই বাংলাদশে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৭২০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণরে স্বপ্ন দেখে। বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য সম্ভাবনাময় ১৮ দেশের তালিকার মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ। তারপরও হরতাল-অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের সীমানা পেরিয়ে ভিন্ন কোন দেশে চলে গেছে বিদেশী বিনিয়োগ। এর মধ্যে অবকাঠামোগত সঙ্কটের অযুহাতে বেশ কয়েক বছর দেশীয় বিনিয়োগও এক জায়গায় আটকে আছে।

বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রা এখন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ পারকিনসন ও নরওয়ের অর্থনীতিবিদ ফালান্ড বাংলাদেশকে উন্নয়নের পরীক্ষাগার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ হবে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের সমীক্ষায় বলছে, ২০৩০ সাল নাগাদ ‘নেক্সট ইলেভেন’ সম্মিলিতভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশকে ছাড়িয়ে যাবে। অপরদিকে লন্ডনের একটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা লিখেছে, ২০৫০ সালে প্রবৃদ্ধির বিচারে বাংলাদেশ পশ্চিমা দেশগুলোকে ছাড়িয়ে যাবে। বিশ্বের নামকরা রেটিং-বিশেষজ্ঞ সংস্থা মুভিস ও স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড পুওরস কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশকে সন্তোষজনক অর্থনৈতিক রেটিং দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অন্যতম সমালোচক হিসেবে পরিচিত ব্রিটেনের দি ইকোনমিস্টের মতে, বাংলাদেশের সূচকগুলো এতই ইতিবাচক যে, তা ধরে রাখতে পারলে অনুন্নয়ন ও দারিদ্র্য কাটিয়ে উঠতে পারবে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ বেশি এগিয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/জেএম



আপনার মন্তব্য

অর্থনীতি বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং