Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

বৃহস্পতিবার ১৬ আগস্ট ২০১৮, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » শিল্প-সাহিত্য 

ঝিনাইগাতীতে মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য বিলীনের পথে

ঝিনাইগাতীতে মৃৎশিল্পের ঐতিহ্য বিলীনের পথে
ঝিনাইগাতীতে মৃৎশিল্পীদের মাটির তৈরী সাজানো জিনিসপত্রের একাংশ
মুহাম্মদ আবু হেলাল ০৩ এপ্রিল ২০১৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ন Print

শেরপুর: জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলায় কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। মৃৎশিল্পীরা পূর্বপুরুষদের পেশা ছেড়ে দিনদিন অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছে। দেশের বেশীরভাগ মানুষ প্লাস্টিক সরঞ্জাম ব্যবহার করায় এ শিল্পের কদর দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তার সাথে হারাতে বসেছে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প।

বিগত সময়ে উপজেলার কালীবাড়ী, মালিঝিকান্দা, ধানশাইল ও চাপাজোড়া এলাকার প্রায় ২/৩ শতাধিক পরিবার এ পেশায় জড়িত থাকলেও বর্তমানে এ শিল্পকে ধরে রাখার জন্য প্রতিনিয়ত জীবনের সাথে সংগ্রাম করে যাচ্ছে মাত্র ৫০-৬০টি পরিবার। দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় মেলা ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে তাদের তৈরী পণ্য শোভা পায় ধনীদের ড্রইংরুম থেকে শুরু করে শোভাবর্ধনমূলক অনেক স্থানে।

উপজেলার মৃৎশিল্পে কর্মরত চাপাজোড়া গ্রামের মৃত দিনেশ চন্দ্র দাসের ছেলে ভূলানাথ পাল, লিটন পাল ও সুজন পাল এ প্রতিনিধিকে জানান, ‘বর্তমানে এই মৃৎশিল্পের করুন অবস্থা। নির্মাণ খরচ এবং আধুনিকতার সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকা বড় কঠিন হয়ে পড়েছে।’

তারা আরও জানান, শুধুমাত্র পূর্বপুরুষের এ শিল্পকে নিয়ে পেটে-ভাতে বেঁচে আছি। এভাবে বেঁচে থাকার নামকে জীবন বলে না।’

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা জানান, ‘এ শিল্পকে সরকারিভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রতিবছর বিশ্ববাজারে মৃৎশিল্প বিক্রি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। ’

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও স্থানীয় ভাবে বিনামূল্যে মাটি সংগ্রহ করা গেলেও বর্তমানে ব্যাপকভাবে বোরো চাষ হওয়াতে কেউ আর এ কাজে বিনামূল্যে মাটি দিতে চায়না। তাই এ কাজের উপযুক্ত মাটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে উচ্চ দরে কেনা এবং লাকড়ির দাম বেশী হওয়ায় নির্মাণ ব্যয় পড়ে বেশি । এসব কারণে এ ব্যবসায় তারা আর কুলিয়ে উঠতে পারছেনা।

তাছাড়া তাদের তৈরীকৃত মালামাল শুকানো ও মজুদ করার জন্য বড় চালা সিস্টেম কোন ঘর না থাকায় বৃষ্টির মৌসুমে ব্যাপক ক্ষতির সন্মুখীন হন। অর্থাভাবে আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করে চাহিদা মোতাবেক মালামাল তৈরি করাও তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ক্রয়ে যোগান, সহজ ভাবে মাটি প্রাপ্তির ব্যবস্থা এবং জিও/এনজিও/সরকারিভাবে সুদবিহীন ঋণের ব্যবস্থা করে একদিকে যেমন এ শিল্প দ্বারা হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব, তেমনি এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতেও ব্যাপকভাবে উৎসাহ যোগাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানান, ‘মৃৎশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে কেমন উদ্যোগ গ্রহণ করলে এ শিল্পের ও তাদের উপকার হবে, তা তারা লিখিতভাবে জানালে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের জন্য আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাব।’

ব্রেকিংনিউজ/ডিএইচ



আপনার মন্তব্য

শিল্প-সাহিত্য বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং