Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » শিল্প-সাহিত্য 

দুর্যোগের আঘাত কাটিয়েছে একুশে আবারও প্রাণের মিলন

দুর্যোগের আঘাত কাটিয়েছে একুশে আবারও প্রাণের মিলন
প্রতিবেদক ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ৮:৪১ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: হঠাৎ ঝড় আর শিলা বৃষ্টির আঘাতে লণ্ড-ভণ্ড একুশে গ্রন্থমেলা একদিনের পর স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার বিকালে মেলা প্রাঙ্গণ কাদা-পানিতে একাকার থাকলেও বৃহস্পতিবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

স্টল মালিক-কর্মীরা নিজেদেরকে দ্রুত গুছিয়ে নিয়েছেন। তাইতো বৃহস্পতিবার মেলা প্রাঙ্গণ যেন বইয়ের সাজানো বাগান। সেইসাথে বই প্রেমিদের ভিড়ও বেড়েছে আগের মতোই। বাঙালীর প্রাণের মিলনে আবারও উচ্ছ্বাসিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমির আঙ্গিনা।

বৃহস্পতিবার বিকালে বইমেলা শুরুর পর থেকে পুরো মেলা মাঠ ঘুরে শোনা গেলো প্রত্যয়ের সুর, নতুনরূপে জেগে ওঠার প্রতিজ্ঞা। তবে মেলার কিছু কিছু অংশে এখনও তাণ্ডবের চিহ্ন স্পষ্ট। কাদা-পানির রাস্তায় পড়েছে বালুর আস্তরণ, নতুন ইটে জেগেছে রাস্তা। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া বই অফিসে ফেরত পাঠিয়ে নতুন নতুন বই নিয়ে অনেক ভ্যান ও গাড়ির সমারহ।

দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত অনেক প্রকাশনীর কর্মীরা এদিন একটু আগেভাগে এসে স্বল্প ভেজা বইগুলো রোদে-বাতাসে শুকিয়ে নিয়েছেন দর্শকদের চক্ষুরালেই।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সৃজনশীল প্রকাশকরা সবাই সবার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। জানছেন পরিস্থিতি সম্পর্কে। যেন একটি পারিবারিক আবহ পুরো মেলা প্রাঙ্গণে। আর সেখানে আত্মার পরম অতিথি পাঠকরা।

কথা হয় কাকলী প্রকাশনীর কর্ণধার নাছির আহমেদ সেলিমের সঙ্গে। তিনি পুরো মেলা ঘুরিয়ে দেখান। আর তুলে ধরেন, বাংলা একাডেমি নিয়ে কিছু অভিযোগ।

নাছির বলেন, সাতদিন মেলার সময়কাল বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছিল, একাডেমি তা মানবে না আমরা বুঝে গেছি। অন্তত শেষ অনুরোধ তাদের করেছি, মেলা শেষ হওয়ার সময় রাত ৮টার জায়গায় যেন এক ঘণ্টা বাড়িয়ে ৯টা করা হয়। এখন দেখা যাক তারা কতটুকু প্রকাশকবান্ধব সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, যাদের ক্ষতি হয়েছে, তা তো আর কাটিয়ে ওঠা যাবে না। কিন্তু শেষ পাঁচদিনের ক্রেতা যেন ছুটে না যায় আমরা সে চেষ্টাই করবো।


বাংলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, বুধবারের দুর্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি আঙ্গিনায় মোট ২শ’টি স্টল কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেলা আড়াই ঘণ্টা বন্ধের পর বিকাল সাড়ে ৫টায় শুরু হয়, তবে তা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বন্ধ হয়ে যায়। যা অন্যদিন চলে রাত ৮টা পর্যন্ত।

এ প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বলেন, আমার বুকটা আনন্দে ভরে গেছে। কারণ এই পাঠকই আমাদের শক্তি-উদ্যম। তারাই মেলার প্রাণ, তারা যে গতকাল বুধবার দুর্যোগের মধ্যেও ভিড় করে এসেছিলেন, এটি একটি বড় বিষয়। বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক, এমন স্বাভাবিকতা শেষদিন পর্যন্ত রইলে প্রকাশকরা কেউ অখুশি রবেন না বলে আশা করি।

এদিকে সাপ্তাহিক ছুটির দিন আগামী শুক্র ও শনিবার সকাল ১০টা থেকে শিশুদের জন্য বই মেলা শুরু হবে বলে জানা গেছে। তবে রবিবার শুরু হবে যথারীতি বিকাল ৩টা থেকে। আর প্রতিদিনই চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। বাংলা একাডেমি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ব্রেকিংনিউজ/এইচএস



আপনার মন্তব্য

শিল্প-সাহিত্য বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং