Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » কৃষি ও পরিবেশ 

হুমকির মুখে সোনাকাটা ট্যাংরাগিরি বনাঞ্চলের ইকোট্যুরিজম

হুমকির মুখে সোনাকাটা ট্যাংরাগিরি বনাঞ্চলের ইকোট্যুরিজম
এম এ সাইদ খোকন ০৫ মার্চ ২০১৬, ৯:২৬ অপরাহ্ন Print

বরগুনা: জেলার নবগঠিত তালতলী উপকূলীয় সংরক্ষিত বনাঞ্চল নিশানবাড়িয়া ও নিদ্রাছকিনা নৈসর্গিক প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য। তবে বন বিভাগের চরম অযত্ন আর অবহেলায় সোনাকাটা ট্যাংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ইকোট্যুারিজম হুমকির দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পটুয়াখালী বন উপ-বিভাগীয় তালতলী রেঞ্জ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ হাজার ৬৩৪ একর জমির উপর এ উপকূলীয় সংরক্ষিত বনাঞ্চল। এ বনে সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, বাবুল, মেহগনী, তুলা, গোল, রেনন্ট্রি, আকাশমনি ও বটসহ হরেক প্রজাতির গাছ রয়েছে।

এ বনাঞ্চলে রয়েছে সোনকাটা ট্যাংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ইকোট্যুারিজম। এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করা যায়। বঙ্গোপসাগরে কোল ঘেঁষা এ বনাঞ্চলের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দক্ষিণে সাগর, পূর্বে কুয়াকাটা, পশ্চিমে পায়রা (বুড়িশ্বর) নদী, উত্তরে তালতলী ও আমতলী উপজেলা। বনাঞ্চলের ভেতরে ৯টি ক্যানেল (খাল) রয়েছে।

শীত মৌসুমে নৌ-ভ্রমণে শত শত পর্যটকরা এখানে আসে। বসে পিকনিকের উৎসব। নিদ্রাছকিনা টেংরাগিরি বিটে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং আমতলী উপজেলা পরিষদ ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তুলেছে সোনাকাটা ট্যাংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ইকোট্যুরিজম। ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইকোট্যুরিজমটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ইকোট্যুরিজমটিতে রয়েছে ২টি কুমীর, ৯টি হরিণ, ২৬টি শূকর ও ১টি মেছোবাঘ। তবে সুষ্ঠু রক্ষেণাবেক্ষণের অভাবে ইকোট্যুরিজমটির বন্যপ্রাণীর জীবন বিপন্ন প্রায়।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১২-১৩ সালে আমতলী উপজেলা পরিষদ ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সোনাকাটা ট্যাংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ইকোট্যুরিজমের অবকাঠামো নির্মাণকাজ নিম্নমানের হয়েছে । আরো অভিযোগ রয়েছে প্রাণীদের খাবার সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠার ও বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রাণীদের নিয়মিত খাবার দিচ্ছে না।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অবকাঠামো নির্মাণ নিম্নমানের হওয়াতে বাউন্ডারি প্রাচীর খসে যাচ্ছে। লোহার খাঁচাগুলোতে মরিচা ধরেছে। পার্কের ভিতরে সুপীয় পানির জন্য টিউবওয়েল বসানো থাকলেও তাতে কোনো পানি উঠছে না। টিউবওয়েলগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলেও তা পরিষ্কার পরিছন্নতার অভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পর্যটকদের জন্য বসার জায়গা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। যে কয়টি রয়েছে, তা অপরিছন্ন। বন্যপ্রাণীদের জন্য নেই কোনো ছাউনি। রুগ্ন হয়ে পড়েছে প্রাণীকুল। এ ইকোপার্কটির দেখাশোনার কাজে নিয়োজিত ৯ জন বন বিভাগের কর্মী আছে। ইকোপার্ক ভ্রমণের জন্য জন প্রতি ১১ টাকা ৫০ পয়সা ভ্রমণকর আদায় করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পর্যটক মো.রেজাউল করিম বাদল জানান, দু’দিন ইকোপার্ক ঘুরে কোনো হরিণের দেখা পাইনি।

পটুয়াখালী থেকে আসা পর্যটক আব্দুল্লাহ বলেন, পার্কের মধ্যে কোনো সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। টিউবওয়েলগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের বসার স্থান ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থাগুলো অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন।

ইকোপার্কে ভ্রমণকর আদায়কারী ইউনুচ আলী বন্যপ্রাণীদের খাবার সরবরাহের অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, ঠিকাদার বিট কর্মকর্তার কাছে প্রাণীগুলোর মাসিক খাবারের টাকা দিয়ে যায়। স্থানীয় বাজার থেকে খাবার ক্রয় করে দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পার্কের রাস্তাঘাট, খাবার পানি ও টয়লেটের সমস্যা আছে।

নিন্দ্রাছকিনা বিট কর্মকর্তা সজীব কুমার মজুমদার জানান, আমি সদ্য যোগদান করেছি। অনিয়মগুলো দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

পটুয়াখালী উপ-বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিহির কুমার জানান, ইকোপার্কটির উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে পার্কের বন্যপ্রাণীর খাবার ঠিকাদারের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, খাবার সরবরাহের অনিয়মের কথা আমার জানা নেই।

ব্রেকিংনিউজ/ডিএইচ



আপনার মন্তব্য

কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং