Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

সোমবার ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » কৃষি ও পরিবেশ 

পানি শূন্য তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র

গাইবান্ধায় নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত

 গাইবান্ধায় নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল ০৫ মার্চ ২০১৬, ৮:৩৮ অপরাহ্ন Print

গাইবান্ধা: জেলায় অব্যাহত পানি হ্রাসের ফলে তিস্তা-ব্রহ্মপুত্র ও যমুনাসহ সবগুলো নদীর চ্যানেলগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। যে কোন সময় নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত নভেম্বর থেকে ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা ও যমুনায় পানি কমতে শুরু করেছে। এখন পানির স্তর সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। ফলে নদীগুলো অসংখ্য শাখা প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে শীর্ণকায় রূপ নিয়েছে। নদীবুকে জেগে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য ডুবোচর। ফলে ওইসব চ্যানেলে ইঞ্জিনচালিত চালিত নৌকাসহ অন্যান্য নৌযান চলাচল করতে পারছে না।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি বালাসিঘাট, তিস্তামুখঘাট, সৈয়দপুর, এরেন্ডাবাড়ি, ফজলুপুর, সদর উপজেলার কুন্দেরপাড়া, কামারজানি, গিদারি এবং সাঘাটা নৌ বন্দরে চলাচলকারি চ্যানেলে পানি সংকট দেখা দিয়েছে। ফলেওইসব নৌঘাট থেকে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর, কর্তীমারী, চিলমারি, রৌমারি, জামালপুরের ইসলামপুর, বাহাদুরাবাদ, দেওয়ানগঞ্জ, ঘুটাইল ফুলছড়ির সানন্দবাড়ী, ফুটানী বাজার, জিগাবাড়ী, হরিচন্ডি, খোলাবাড়ী, খাটিয়ামারী, সুন্দরগঞ্জের হরিপুর, কাপাসিয়া, লালচামার, বেলকাসহ বিভিন্ন ঘাট দিয়ে এখন নৌকাসহ অন্যান্য নৌযান স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।

ফলে চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক নৌঘাট এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে নদী বুকে বিশাল চর জেগে ওঠায় মাইলের পর মাইল এখন পায়ে হেঁটে যাতায়াত করতে হয় চরবাসীকে। ফলে তপ্ত বালিরাশিতে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়ছে।

পানি সংকটের কারণেই নৌ যোগাযোগ এখন হুমকির মুখে। যে সব রুটে এখনও যান্ত্রিক নৌকাগুলো চলাচল করছে সেগুলোকে বহু ঘুরপথে যাতায়াত করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে হয়। ফলে সময় লাগছে দ্বিগুণেরও বেশি। অপরদিকে ছোট ছোট নদীগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় ওইসব নদীতে ইতোপূর্বে স্থাপিত সেচ যন্ত্রগুলো এখন পানি সংকটের মুখে পড়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট সেচযন্ত্রের আওতাধীন বোরো জমি পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে।

গত বছরের অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনাসহ ছোট বড় শাখা নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করে। অব্যাহত পানি হ্রাসের ফলে নদীগুলো নিজেদের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে এখন। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তাসহ তিনটি নদীর পানি এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে। এসব নদীর বুকে বিশাল বিশাল চর জেগে উঠেছে এখন।
নাব্যতা থাকায় স্বাভাবিক সময় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের বির্স্তীর্ণ চরাঞ্চলে যাতায়াতের জন্য ৩০টি রুটে নৌযান চলাচল করতো। এখন সেখানে মাত্র ১৭টি রুটে যান্ত্রিক নৌকা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। চরাঞ্চলে বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষ নদীতে নাব্যতা থাকার সময় স্বাভাবিকভাবে নৌকায় করে চলাচল করতো।

এখন নদী বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর এবং শীর্ণকায় নদীর শাখাগুলো পায়ে হেটে গন্তব্য স্থলে তাদের পৌঁছতে হয়। ফলে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানান, অব্যাহত পানি হ্রাসের ফলে এ নদীগুলো আরও ভরাট হয়ে যাবে এবং নাব্যতা সংকটের মুখে পড়বে। সেজন্য অবিলম্বে নৌ চ্যানেলগুলো ড্রেজিং করে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

তারা জানান, দেশের নদীগুলো ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার সরকারের একটি মহাপরিকল্পনা রয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/ডিএইচ



আপনার মন্তব্য

কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং