Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » কৃষি ও পরিবেশ 

মুন্সীগঞ্জে আলুর বাম্পার ফলন

মুন্সীগঞ্জে আলুর বাম্পার ফলন
মো. হোসনে হাসানুল কবির ০৩ মার্চ ২০১৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন Print

মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জে আলুর বাম্পার ফলন হলেও দাম নিয়ে হতাশায় ভুগছেন কৃষকরা। আলুর জন্য বিখ্যাত মুন্সীগঞ্জ জেলায় এবার ৩৮৫৫০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। গত বছর ৩৭৬০০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছিল।

বীজ, কীটনাশকসহ সব ধরনের কৃষি কাজে ব্যবহৃত জিনিসের দাম বেশি হওয়ায় এবার আলু চাষে কৃষকদের গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আলু তোলার সময় অতিবাহিত হতে চললেও কৃষকরা আলু তুলতে পারছেনা কারণ কোন পাইকার এবার আলু কেনার জন্য আসছেনা। তাছাড়া মুন্সীগঞ্জে আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগারগুলো এখন পর্যন্ত খুলছেনা। এতে সাধারণ কৃষকরা আলু তুলে রাখবে কোথায়? এমন ভাবনা নিয়ে জমিতেই আলু ফেলে রেখেছে। আর নির্ধারিত সময়ে আলু না তোলার কারণে বৃষ্টিতে ভিজে আলুতে নানা ধরনের পোঁকার আক্রমণ করে আলু নষ্ট করে ফেলছে। জমিতে উৎপাদনের শতকরা ২০% আলু মড়ক রোগে আক্রান্ত হয়ে পঁচে গেছে।

সরেজমিনে মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় আলুর জমিতে গিয়ে দেখা যায়, আলুতে এক ধরনের রোগ বেশি দেখা যায় সেটি হল চর্মরোগ কৃষকদের ভাষায় দাঁদ, পোঁকড়া ইত্যাদি রোগে আলু নষ্ট হচ্ছে বেশি। আর বৃষ্টি আসার কারণে আলু তুলতে পারছেনা কুষকরা। বৃষ্টি আসার পর জমি শুকানোর আগে আবার বৃষ্টি চলে আসে এতে কৃষকরা ইচ্ছা করলেও আলু তুলতে পারছেনা।

আলু চাষী মারফত আলী জানান, এবার আমি ২০ একর জমিতে আলুর চাষ করেছি এবার আমার খরচ বেশী পড়েছে। এখন পর্যন্ত কোন পাইকার আলু কেনার জন্য আসছেনা, শুনছি আসবে। তাছাড়া হিমাগারগুলো খুললে কষ্ট করে হলেও হিমাগারে রাখতাম।

আরেক কৃষক মো. দুলাল বলেন, আলু পাইকারদের মধ্যে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে তারা এসে দাম বলে চলে যায়, বিক্রি করতে রাজী হলেও না নিয়ে আবার অন্য লোক পাঠিয়ে কম দাম বলে কিন্তু নিচ্ছেনা। যাতে আমরা বাধ্য হই কম দামে তাদের কাছে বিক্রি করতে। তাছাড়া পাইকাররা নগদ টাকায় কেনার চেয়ে বাকিতে নিতে চায় তাতেও দাম এবং টাকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। মুন্সীগঞ্জে এবার যে পরিমাণ জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে তা বাজারজাত করার মতো স্থান খুঁজে পাচ্ছেনা কৃষকরা।

মুক্তারপুরের টংগীবাড়ী হিমাগারের ম্যানেজার আবু সাঈদ জানান, আমরা আমাদের হিমাগার খুঁলে দিয়েছি গতকাল, আজ থেকে আলু আসতে শুরু করেছে।

জাজিরা হিমাগারের ম্যানেজার নুরুল ইসলাম জানান, হিমাগার আজ থেকে খুলে দিয়েছি কৃষকদের বৃষ্টির কারণে আলু তুলতে দেরি হয়েছে। তাই আমরা একটু দেরি করে খুলেছি।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হুমায়ুন এর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, গত বছর এ জেলায় ৩৭৬০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। এবার তা বেড়ে ৩৮৫৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। এবার উৎপাদনের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় বেশি। আশা করি প্রতি হেক্টরে ৩৫ টন করে আলু পাওয়া যাবে।

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এটিআর



আপনার মন্তব্য

কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং