Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » কৃষি ও পরিবেশ 

শিমুল গাছে পানকৌড়ির মিলন মেলা

শিমুল গাছে পানকৌড়ির মিলন মেলা
আনোয়ার হোসেন আকাশ ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ৫:২৩ অপরাহ্ন Print

ঠাকুরগাঁও: জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার কেউটান গ্রাম। রাণীশংকৈল-হরিপুর পাকা সড়কের পাশে একটি শিমুল গাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। এরই কোল ঘেঁসে বয়ে গেছে কুলিক নদী। বর্ষা মৌসুমে ভরা যৌবন লাভ করে নদীটি। শীতকালে জলশূন্য নদীটি মৃত প্রায়। 


তবে সূর্য যখন পূর্ব আকাশে সোনালী আভা ছড়ায় তখনি শিমুলের ডাল থেকে দুই ডানা মেলে উড়তে থাকে পানকৌড়ির দল। যে যার মতো উড়ে যায় আহারের খোঁজে। দুপুর হলে আবার শুরু হয় আশ্রয় ফেরার পালা।

প্রতিদিনের মতো এরা এসে জড়ো হয় নদী পাড়ের শিমুল গাছটিতে। দেখে মন ভরে যায় পথচারীদের। অবাক চিত্তে চেয়ে থাকেন পথচারীরা। বিশেষ করে যারা এ দৃশ্য প্রথম দেখেন। অনেকেই বলা-বলি করতে থাকেন- এত মানুষের সমাগমের মধ্যেও নির্দিধায় পাখিগুলো কীভাবে গাছের ডালে ঝাঁক বেধে বসে আছে!

এরা কখনও সবুজ পাতার মাঝে আবার শীতকালে পাতা ঝরে গেলে পাতা বিহীন ডালের ডগায় অনায়াসে বসে থাকে। সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়তে শুরু করে গাছের চেহারা আরো মনোরম হতে থাকে। সূর্যতাপ কমতে থাকা সোনালী আলোয় আরো মনোমুগ্ধকর করে তোলে পাখিগুলোকে। সারা বছর এদের এখানে দেখা যায়। তবে শীতকালে বেশি পরিমাণে চোখে পড়ে। প্রতিদিন পায় কয়েক’শ পাখির সমাগম হয় গাছটিতে।

শিমুল গাছের স্বত্ত্বাধিকারী যাদব রায় ব্রেকিংনিউজকে জানান, প্রায় বছর আটেক আগে অগ্রহায়ণ মাসের এক বিকালে চার-পাঁচটি পানকৌড়ি পাখি এসে গাছটিতে বসে। পরের দিন আরো কয়েকটি পাখি আসতে দেখা যায়। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে গাছটি পাখিতে ভরে যায়। পাখির এমন ভালবাসা পেয়ে গ্রামের মানুষ এদের আগলে রাখতে শুরু করে। গাছটিতে রাতের আশ্রয় শেষে আবার সকাল হলেই পাখিগুলো খাদ্যের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে।

কেউটান গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি মো. রইসউদ্দিন ব্রেকিংনিউজকে জানান, প্রতিদিন ২-৩শ’ পানকৌড়ি পাখি এই শিমুল গাছে আসে। সে সময় তাদের কলকাকলিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। দূর-দূড়ান্ত থেকে অনেক মানুষ প্রতিদিনই আসেন এদের দেখতে।

হোসেনগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান মো. মাহবুব আলম ব্রেকিংনিউজকে জানান, গ্রামের প্রত্যেক মানুষ পাখিবান্ধব হয়ে উঠেছেন। গ্রামবাসী ইতোমধ্যে কয়েকবার পাখি শিকারীদের মারধর করেছে। পাখিগুলো সংরক্ষণের জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।

পরিবেশবিদ অধ্যক্ষ মো. তাজুল ইসলাম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, পাখিরা নিজেরাই তাদের নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নিয়েছে। এখন আমাদের সবার দায়িত্ব এদের রক্ষা করা।

এদের রক্ষা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাণীশংকৈল পাখিবান্ধব উপজেলা হিসেবে পরিচিতি পেলে সেটি সবার জন্য গর্বের বিষয় হবে।

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এমআর/এইচএস



আপনার মন্তব্য

কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং