Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » কৃষি ও পরিবেশ 

সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে ‘ইমেজ মুক্তা’

সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে ‘ইমেজ মুক্তা’
মো.আউয়াল মিয়া ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন Print

বাকৃবি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই)। এখানকার বিজ্ঞানীরা দেশের সর্বপ্রথম মিঠাপানির ঝিনুকে ব্যাপক সংখ্যক ইমেজ মুক্তা (Image pearl) উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে। ইমেজ মুক্তা এক ধরণের মুক্তা যা সাধারণত চ্যাপ্টা আকৃতির। ইমেজ মুক্তা উৎপাদনের কৌশল অবলম্বন করে ঝিনুক থেকে নাম, পাখি, মাছ, নৌকা, অলংকার, কোর্ট পিন, শো-পিচ ইত্যাদি এবং বিশেষ করে নারীদের পোষাক পরিচ্ছদে সৌন্দর্য বর্ধক হিসেবে কিংবা গৃহসজ্জায় ইমেজ মুক্তার পৃথিবীব্যাপী কদর রয়েছে। ইমেজ মুক্তা অত্যন্ত আকর্ষণীয়, মূল্যবান এবং অভিজাত শিল্প। ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী যে কোন নকশা দিয়ে ইমেজ মুক্তা উৎপাদন করা সম্ভব।

বিএফআরআইয়ের মুক্তা বিজ্ঞানী ড. মোহসেনা বেগম তনু বলেন, দেশে মুক্তা উৎপাদনকারী ৫ প্রজাতির মিঠাপানির ঝিনুকের মধ্যে ২ প্রজাতির ঝিনুক (Lamellidens marginalis এবং L.corrianus ) ইমেজ মুক্তা উৎপাদনে অধিকতর উপযোগী। ইমেজ মুক্তা উৎপাদন পদ্ধতি সহজসাধ্য ও স্বল্প সময় লাগে। গোল মুক্তা উৎপাদন করতে যেখানে প্রায় দেড় বছর সময় লাগে সেখানে ইমেজ মুক্তা মাত্র ৭-৮ মাসেই উৎপাদন সম্ভব। ইমেজ ঝিনুকে স্থাপন করার জন্য সাধারণত বড় আকৃতির স্বাস্থ্যবান ও চ্যাপ্টা আকৃতির ঝিনুক বাছাই করা হয়। পরে মোম, প্লাষ্টিক, স্টিল ইত্যাদি দিয়ে কোন কিছুর নকশা (প্রতিচ্ছবি) তৈরি করে তা ঝিনুকের দেহের অভ্যন্তরে ম্যান্টাল টিস্যুর নিচে স্থাপন করা হয়। অপারেশনের পরে ঝিনুক পুকুর বা জলাশয়ে ছেড়ে দিলে ৭-৮মাস পর যে নকশাটি ঝিনুকের ভিতরে স্থাপন করা হয়েছিল তার উপর মুক্তার প্রলেপ তৈরি হয় এবং হুবহু সেই আকৃতির ইমেজ মুক্তা উৎপাদিত হয়। পুকুরে ছাড়ার পর প্রায় ৮০ শতাংশ ঝিনুক বেঁচে থাকে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। ইমেজ মুক্তা আহরণের পূর্বে পুকুরে নির্দিষ্ট পরিমাণে সার প্রয়োগ এবং পানির গুনাগুণ নিয়মিত পরীক্ষা করতে হয়। এতে ইমেজ মুক্তার উজ্জলতা ও গুণগতমান ভাল হয়।

দেশে ইমেজ মুক্তা উৎপাদনের সম্ভাবনার বিষয়ে পরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেন, আমাদের জলবায়ু ও পরিবেশ ইমেজ মুক্তা উৎপাদনের উপযোগী। দেশে-বিদেশে ইমেজ মুক্তার ব্যাপক কদর রয়েছে। এর বাণিজ্যিক দিকও সম্ভাবনাময়। স্বল্প পুঁজিতে গ্রামীণ বেকার মহিলারা ইমেজ মুক্তা উৎপাদনে সহজেই সম্পৃক্ত হতে পারবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হতে পারবে। মাছ চাষের পাশাপাশি স্বল্প খরচে এ মুক্তা চাষ করা সম্ভব। ভাল মানের মুক্তা উৎপাদন করতে পারলে বিদেশে রফতানি করা সম্ভব।

এ প্রসঙ্গে ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহের জানান, আমাদের দেশে মুক্তা উৎপাদনকারী ঝিনুকের আকার ছোট হওয়ায় ভিয়েতনাম থেকে অপেক্ষাকৃত বড় ঝিনুক আমদানির জন্য মন্ত্রণালয় থেকে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। মুক্তা উৎপাদনকারী ঝিনুকের প্রজনন কৌশল উদ্ভাবনের জন্য বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনারও চেষ্টা চলছে। বানিজ্যিক ভাবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে এই ইমেজ মুক্তা। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।

গ্রামীণ পর্যায়ে এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং মহিলাদের ক্ষমতায়ন করা সম্ভব হবে বলেও তিনি জানান।

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এমএইচ



আপনার মন্তব্য

কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং