Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » কৃষি ও পরিবেশ 

আমনের ক্ষতি বোরোয় পোষাতে ব্যস্ত নড়াইলের কৃষকেরা

আমনের ক্ষতি বোরোয় পোষাতে ব্যস্ত নড়াইলের কৃষকেরা
ছবি: ব্রেকিংনিউজ
উজ্জ্বল রায় ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ১:৫৮ অপরাহ্ন Print

নড়াইল: নড়াইলে এ বছর আমন ধানের ভাল ফলন হলেও আশানুরুপ দাম না পেয়ে জেলার কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর সেই আমনের ঘাটতি পুষিয়ে নিতে বোরো ধান আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। বছরের পর বছর ধানের কাঙ্খিত দাম না পেয়ে ধান চাষের উৎসাহে কিছুটা ভাটা পড়লেও থেমে নেই কৃষক। নতুন করে আশায় বুক বেধে আবারও মেতে উঠেছেন বোরো আবাদে। লাভ-লোকসান যাই হোক পূর্ব পুরুষের পেশাকে আঁকড়ে ধরেই তারা একটু ভাল ভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নড়াইল জেলার ৩টি উপজেলায় ৪২ হাজার ১৩৪ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮৫ ভাগ ধান জমিতে রোপন করা হয়েছে। বাকি ১৫ ভাগ রোপন করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে।

অনুকূল আবহাওয়া আর সঠিক পরিচর্যার কারণে নড়াইলের ৩টি উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। ফলনে কৃষকেরা খুশি হলেও ধানের দাম কম থাকায় হতাশা বিরাজ করছে তাদের মাঝে। প্রতি মন আমন ধানে কৃষকের ১২০-১৫০ টাকা ঘাটতি হয়েছে। আর সেই ক্ষতি পোষাতে বোরো আবাদে কৃষাণ-কৃষাণীর ব্যস্ততার ছবি এখন নড়াইলের মাঠে মাঠে। বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ, জমির আগাছা পরিস্কার, জমি তৈরি, চারা রোপনসহ বোরো আবাদে তাদের ব্যস্ততার প্রাণবন্ত নানা দৃশ্যপট যেদিকে দুচোখ যায়। ভাল ফলন পেতে সার ছিটানো, সেচ দেয়াসহ ক্ষেতের নানা পরিচর্যায় সকাল সন্ধ্যা খেটে চললেও মনে শান্তি নেই তাদের। নিরুপায় কৃষক পূর্বপুরুষের পেশাকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন। এছাড়া কোন বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা বোরো আবাদ করছেন। কৃষি উপকরণের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে চাষাবাদ দরুহ হয়ে পড়লেও অনেক আশায় বোরো চাষকে ঘিরে নিরন্তর চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ। তাদের একটিই চাওয়া ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের শুভদৃষ্টি পড়বে।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নড়াইলের ৩টি উপজেলার মধ্যে লোহাগড়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে জেলার কাড়ার বিল, নলদিরচর বিল, মরিচপাশার বিল, চাচই বিল, আকদিয়ার বিল, রুইয়ের বিল, কৈয়ের বিল, ভাটিয়ার বিল, খলিয়ার বিল, হবশাৎরার বিল, মুলিয়ার বিল, আইড়োর বিল, বিল ইছামতির বিল, নুন জলার বিল, নলাবিল, মাইজ পাড়ার বিলসহ জেলার বিভিন্ন বিলে বোরোর আবাদ বেশি হয়েছে।

নড়াইল সদরের মুলিয়া গ্রামের কৃষক মনি শেখ ব্রেকিংনিউজকে জানান, আমি এ বছরে ২ একর জমিতে আমন ধানের চাষ করেছিলাম। ফলনও ভাল হয়েছিল কিন্তু বাজারে আমনের দাম কম থাকায় প্রতি মণ ধানে ১শ’ থেকে ১২০ টাকা ঘাটতি গেছে। চলতি মৌসুমে জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছি আশা করছি সরকার আমাদের দিকে খেয়াল করবে এ বছর ধানের দাম বৃদ্ধি করবে।

নড়াইল উজিরপুর গ্রামের কৃষক রাজা মিয়া জানান, এক মণ ধান উৎপাদন করতে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা খরচ হয় বর্তমান আমাদের বাজারে ধানের দাম অনেক কম। হাটে মণ প্রতি ৫৫০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি মণ ধানে কৃষকের ১০০ টাকারও বেশি ঘাটতি থাকে এক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি প্রয়োজন।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক শেখ আমিনুল হক জানান, চাষীরা ধানের কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেনা তাই তাদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। এরকম চলতে থাকলে চাষীরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। আশাকরি এ বছর আবাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে।

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এটিআর



আপনার মন্তব্য

কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং