Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

সোমবার ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, অপরাহ্ন

প্রচ্ছদ » কৃষি ও পরিবেশ 

১০ থেকে ১৫ মার্চ আবারো সুন্দরবনমুখী জনযাত্রা

১০ থেকে ১৫ মার্চ আবারো সুন্দরবনমুখী জনযাত্রা
ছবি: ব্রেকিংনিউজ/জর্জ
প্রতিবেদক ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ৪:৩২ অপরাহ্ন Print

ঢাকা: সুন্দরবন রক্ষায় রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সকল অপতৎপরতা বন্ধে ১০ থেকে ১৫ মার্চ সুন্দরবনমুখী জনযাত্রা করবে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি।

শনিবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে কমিটির পক্ষে ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, সুন্দরবন রক্ষায় বনবিনাশী রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সকল অপতৎপরতা বন্ধ এবং জাতীয় কমিটির ৭ দফা বাস্তবায়নে আগামী ১০ থেকে ১৫ মার্চ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুন্দরনের উদ্দেশে যাত্রা করবে এই কমিটি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মহাম্মদ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, রুহিন হোসেন প্রিন্স,বজলুর রশীদ ফিরোজ, জোনায়েদ সাকী, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা,আজিজুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, বহ্নী শিখা জামালী, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, মহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সুন্দরবনমুখী এই জনযাত্রা সফল করতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জে এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে প্রতিবাদ ও দাবি সমাবেশ এবং ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এসময় বক্তারা বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনেক বিকল্প আছে। সুন্দরবনের কোন বিকল্প নেই। দুর্যোগের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের জন্য সবচাইতে শক্তিশালী প্রাকৃতিক রক্ষা বর্ম এই সুন্দরবন আছে বলেই প্রতিটি পাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন বাঁচে।

সুন্দরবন বিনষ্ট হওয়া মানে বহুলক্ষ মানুষের জীবিকা হারানো, উপকূলীয় অঞ্চলের কয়েক কোটি মানুষকে মৃত্যু ও ধ্বংসের হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া।

অভিযোগ তুলে বক্তারা বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র করে এই অনবায়নযোগ্য বিশাল আশ্রয় পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন ও প্রাণ-বৈচিত্রের অসাধারণ আধার সুন্দরবনকে হত্যার আয়োজন চলছে।

বক্তারা বলেন, শুধু তাই নয়, বিদ্যুৎ কেন্দ্র সামনে রেখে দেশের ভূমিদস্যুদের নানারকম পকল্প তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি ঘিরে ওরিয়নের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিপইয়ার্ড, সাইলো, সিমেন্ট কারখানাসহ নানা বাণিজ্যিক ও দখলদারী অপতৎপরতা বাড়ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, লংমার্চসহ ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রামপাল ও ওরিয়ন বিদ্যুৎ পকল্প বাতিল এক জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে।

সুন্দরবনের গুরুত্ব এদেশের মানুষ জানে, জানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সংশ্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। তাই সুন্দরবনের পাশে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের বিপদ নিশ্চিত জেনে রামসার ও ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারকে একাধিকবার চিঠিও দিয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া সুন্দরবনের জন্য বিপদজনক রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি থেকে নরওয়ে সরকারের গ্লোবাল পেনশন ফান্ড বিনিয়োগ পত্যাহার করে নিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থসংস্থানে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমনকি প্রথমদিকে খোদ সরকারের বিভিন্ন বিভাগও লিখিত ভাবে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়েছিলো।

কিন্তু কতিপয় দেশী-বিদেশি সুবিধাভোগি গোষ্ঠীর মুনাফা উন্মাদনা সরকারকে বধির করেছে। এতে সুন্দরবন ধ্বংসের আয়োজন আরও জোরদার হয়েছে। কোনোভাবেই আমরা বাংলাদেশ, ভারত ও সারাবিশ্বের এই প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস হতে দিতে পারি না বলেও সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ।

এসময় তারা ৭ দফা তুলে ধরেন।

জাতীয় কমিটির ৭ দফা দাবিগুলো হলো: ১. সর্বজনের সম্পদে শতভাগ মালিকানা ও শতভাগ সম্পদ দেশের কাজে ব্যবহার। ২. দুর্নীতি করবার দায়মুক্তি আইন বাতিল করে খনিজ সম্পদ রফতানি নিষিদ্ধকরণ আইন প্রণয়ন। ৩. পিএসসি পক্রিয়া বাতিল করে স্থলভাগে ও সমুদ্রে নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানে জাতীয় সংস্থাকে পয়োজনীয় সুযোগ। ৪. ক্ষমতা ও বরাদ্দ প্রদান, রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট চালু, মেরামত ও নবায়ন। ৫. এশিয়া এনার্জিকে (জিসিএম) দেশ থেকে বহিষ্কার ও উন্মুক্ত খনন পদ্ধতি নিষিদ্ধ সহ ফুলবাড়ী চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন। ৬. জাতীয় সম্পদের উপর জাতীয় কর্তৃত্ব নিশ্চিত করবার জন্য জাতীয় সক্ষমতার বিকাশ।

এছাড়া পরিবেশ ও জনস্বার্থ নিশ্চিত করার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য জ্বালানী সম্পদের সর্বোত্তম মিশ্রণ ঘটিয়ে একটি জ্বালানী নীতি পণয়ন করে তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নির্মাণ এবং জনশক্তি তৈরির কাজ শুরু, জনধ্বংসী পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ওপর গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।

ব্রেকিংনিউজ/এনএ/এইচএস



আপনার মন্তব্য

কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং