Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » কৃষি ও পরিবেশ 

নড়াইলে কৃষিজমি কমেছে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার একর

নড়াইলে কৃষিজমি কমেছে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার একর
ছবি: ব্রেকিংনিউজ
উজ্জ্বল রায় ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ২:৪০ অপরাহ্ন Print

নড়াইল: নড়াইল একটি কৃষিপ্রধান জেলা। বরাবরই এ জেলায় উদ্বৃত্ত ফসল উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মেটানোসহ বিভিন্ন জেলায় তা সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বসত বাড়ি, মৎস্য ঘের, ইটভাটা, বিভিন্ন স্থাপনা এবং নদী ভাঙনের কারণে কৃষি জমির পরিমাণ কমছে ২১ হাজার ৩০১ একর।

পরিকল্পিত ভাবে ভূমি ব্যবহার করা না হলে ভবিষ্যতে কৃষি জমির সংকট দেখা দিতে পারে। স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জেলায় এখন মোট আবাদী জমির পরিমাণ প্রায় ৭৬ হাজার ৮০৭ হেক্টর। কিন্তু এরমধ্যে পতিত জমির পরিমাণ কত, সে সম্পর্কে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। কিন্তু জেলায় এখন কৃষি জমির উপর বসত বাড়ি, মাছের ঘের, ইটভাটা এবং বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকারি ভাবে কৃষি জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। তাছাড়া নদী ভাঙনের কারণে কৃষিজমি হ্রাস পাওয়ার ঘটনাও থেমে নেই। সব মিলিয়ে গত এক দশকে জেলায় কৃষিজমি হ্রাস পেয়েছে ২১ হাজার ৩০১ একর।

সূত্রে আরও জানা যায়, সরকারি ভাবে ২টি পিকনিক স্পটের জন্য ২১ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে আরও ৩৮২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। তাছাড়া গত ১ দশকে ৪ হাজার ৯৬৯ একর কৃষি জমিতে বসত বাড়ি গড়ে উঠেছে। ৬০০ একর কৃষি জমির উপর ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে। ইটের কাঁচামাল হিসেবে আরও ৭ হাজার একর উর্বর কৃষি জমির টপসয়েল ব্যবহার করা হচ্ছে। ৪ হাজার ৩০০ একরে মৎস্য ঘের গড়ে তোলা হয়েছে। আর নদী ভাঙনের কবলে পড়ে ৪ হাজার ৫০ একর জমি বিলীন হয়ে গেছে।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এক দশক আগে নড়াইলে জনসংখ্যা ছিলো ৬ লক্ষ ৭০ হাজার ৩২০ জন। এখন জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লক্ষ ৮০ হাজার ৭৪৫ জন। একই সঙ্গে ছোট পরিবারের সংখ্যা বাড়ছে। গড় ৪ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য বসতবাড়ি প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল রেখে গত এক দশকে জেলায় ২৭ হাজার ৬০৬টি বসতবাড়ি তৈরি হয়েছে। এসব বাড়ির ৯০ শতাংশই আবার গ্রামে। বসতবাড়ি নির্মাণে ৪ হাজার ৯৬৯ একর কৃষিজমি হ্রাস পেয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, ৮ বছর আগে যে জমিতে ধান, পাট ও রবিশস্য উৎপাদন হতো, সেখানে এখন বসতবাড়ি। কৃষি জমির উপর বিলপাড়া, নতুনপাড়া, চরপাড়া, হঠাৎ পাড়াসহ নতুন নতুন বসতি গড়ে উঠেছে। কোনো এলাকায় একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ হলেই সেখানে দ্রুত আরও নতুন বাড়ি ও বসতি গড়ে উঠছে। শহরের তুলনায় গ্রামা জমির দাম কম হওয়ায় কৃষি জমিতে বসতি গড়ে ওঠার হ্রাস বেড়েছে বলে তারা জানান।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা সূত্রে জানা যায়, গত এক দশকে নড়াইলের ৩ উপজেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৭৮ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রেললাইন স্থাপনের জন্য প্রায় ৪০০ একর অধিগ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যার প্রধান অংশই ফসলি জমি। এছাড়া গত এক দশকে নড়াইলে ৪ হাজার ৩০০ একর কৃষিজমির উপর প্রায় ২ হাজার নতুন মৎস্য ঘের তৈরি হয়েছে। গত ১০ বছরে ৬০০ একর জমিতে প্রায় দেড়শ ইটভাটা তৈরি হয়েছে। ভাটার কাঁচামাল হিসেবে প্রতি বছর ৭০০ একর জমির টপসয়েল কাটা হচ্ছে। গত এক দশকে প্রায় ৭ হাজার একর কৃষিজমির মাটি কাটা হয়েছে। জেলার লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলায় রয়েছে মধুমতি নদী। তার দুই পাড়ে রয়েছে ৭৬টি গ্রাম। এর মধ্যে ৫৪টি গ্রাম ভাঙনকবলিত।

নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক শেখ আমিনুল হক ব্রেকিংনিউজকে জানান, ফসলি জমির উপর ইটভাটা করা, তার উপরিভাগের মাটি কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করার হ্রাস বেড়েছে। ফলে ওই সব জমিতে এখন ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া কৃষিজমি ব্যবহারের জন্য একটি নীতিমালা তৈরি ও কার্যকর করা দরকার। অপরিকল্পিতভাবে বসতি স্থাপন করার ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা এবং মধুমতির ভাঙন রোধেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা ছাড়া কৃষিজমি আরও হ্রাস পাবে বলে তিনি জানান।

জেলা প্রশাসক মো. হেলাল মাহমুদ শরীফ ব্রেকিংনিউজকে জানান, ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়ালে কর-সংক্রান্ত নীতিমালা থাকলেও ভূমি ব্যবহার নীতিমালা নেই। ফলে মালিক তার প্রয়োজনে যে কোনোভাবে জমি ব্যবহার করতে পারেন। ফলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আইনগতভাবে বাধা দেয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। তবে কৃষিজমিতে বসতি স্থাপনসহ এর অবাধ ব্যবহারের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিহিত করবেন। সবার মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা দরকার বলে তিনি জানান।

ব্রেকিংনিউজ/এটিআর



আপনার মন্তব্য

কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং