Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

বৃহস্পতিবার ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » কৃষি ও পরিবেশ 

সীতাকুণ্ডের শিম যাচ্ছে বিদেশে

সীতাকুণ্ডের শিম যাচ্ছে বিদেশে
ছবি: ব্রেকিংনিউজ
মো.ইমরান হোসেন ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ৯:৫২ অপরাহ্ন Print

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম): ভূ-প্রকৃতিগতভাবে শিম চাষের অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা। শীতের শুরুতে পুরো উপজেলা নানা জাতের শিম গাছে ভরে উঠে মাঠ-ঘাট, রাস্তা ও বাড়ির আশপাশ। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো সুস্বাদু শীতকালীন সবজি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। গত বছরের সমপরিমাণ শিম উৎপাদন হওয়ায় বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এই সবজি চাষে। অনেকটা খরচবিহীন সবজিতে অধিক লাভ হওয়ায় উৎসাহভরে শিম চাষ করে সব শ্রেণির মানুষ।

কার্তিক মাসের শুরুতে বীজ বপনের মাধ্যমে শুরু হয় শিম চাষের যাত্রা। কম খরচের সহজলভ্য চাষে অধিক ফলন ঘরে উঠায় প্রতিটি পরিবার দুটি-একটি চারা রোপন করে বাড়ির আশ-পাশে পতিত জায়গায়। প্রকৃতিকভাবে সু-স্বাদু সবজির একমাত্র আবাদ হয় সীতাকুণ্ড অঞ্চলের বেলে-দোঁআশ মাটিতে। তাই মহাসড়কের দু’পাশ হয়ে প্রতিটি জায়গায় অজস্র শিম গাছের সারি চোখে পড়ে। যা রীতিমত চোখে তাক লাগিয়ে দেয় অন্যান্য অঞ্চলের মানুষদের।

দারগাহাট, টেরিয়াইল, নুনাচরা, বটতল, শেখপাড়া, গুলিয়াখালি, গুপ্তাখালি, বাশবাড়িয়া ও বাড়বকুণ্ড এলাকায়ও শিম চাষের ব্যাপক উদ্দীপনা চোখে পড়ে। প্রকৃতিগত কারণে এই অঞ্চলের মাটিতে শিম চাষে বিশেষ বৈশিষ্ট রয়েছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়।

কার্তিক মাসে লাগানো বীজ হতে এক মাসে ফুল ফোটা শুরু করে ফল দিয়ে যায় শিম গাছ। বীজ অঙ্কুরোদগম হওয়ার সাথে সাথে লাগিয়ে দেয়া হয় খুটি। শীতের তীব্রতার সাথে বেড়ে উঠা গাছগুলো ফুল দেয়ার কিছু দিনের মধ্যে ফলন আসে ঘরে।

প্রতি বছর এই সবজির আয় দিয়ে বাকি ফসলের খরচ মিটায় কৃষকরা। গত বছর ২ হাজার হেক্টর জমিতে শিম চাষ হয়েছিল। তা এবছর বাড়িয়ে ২ হাজার ৫’শ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে । লাভ হওয়ায় ধানের জমিতে সবজিতে বেশি ঝুকছে চাষিরা। ২ হাজার ৫’শ হেক্টর ফসলি জমিতে সুরি শিম, কাতি কুটা, বাটা ও পুটি শিম চাষ করে থাকে কৃষকরা। যার মধ্যে বেশি চাষ হয় চুরি শিম। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম ২০-২৫ টাকা এবং বীচি ৬০-৭০ দরে বাজারে বিক্রি চলছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর শিম চাষ হতে লক্ষ্যমাত্রার অধিক ফলস আসবে বলে ধারনা করছেন উপজেলা সহকারী কৃষি সুভাষ দে।

এদিকে অনাবাদি জমিতে সবজি চাষ করে খুবই খুশি কৃষকরা। টেরিয়াইল এলাকা কৃষকর শহিদুল ইকরাম শহিদ ব্রেকিংনিউজকে বলেন, কম খরচে শিম চাষে অধিক লাভ হওয়ায় কৃষকরা এই সবজি চাষে খুবই উৎসাহ পায়। তাই শীতের দিনে শিম গাছে ঢেকে পড়ে গ্রাম থেকে গ্রাম।

সীতাকুণ্ডে উৎপাদিত শিম দেশের অভ্যন্তরে যেমন নাম-ডাক অর্জন করেছে, তা দেশ পেরিয়ে বিদেশের মাটিতে গিয়ে অর্থ উপার্জন করে আনছে। বিশেষ করে প্রতি বছর ভারত, পাকিস্থান, কুয়েত, কাতার, সৌদী আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে এই সবজি। সারা বছর শিম চাষ যাতে করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ করছে উপজেলা কৃষি অফিস।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুশান্ত সাহা ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘বিগত সময়ের তুলনায় চাষি বেড়েছে, সে সাথে বেড়েছে আবাদী জমির পরিমাণ। তবে শিমের সারা বছর চাষ ধরে রাখার কোনো উপায় বের করতে পারলে এ অঞ্চলে শিমের আবাদ বহু পরিমাণ বেড়ে যাবে। আমরাও সে লক্ষ্যে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এমআর



আপনার মন্তব্য

কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং