Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » কৃষি ও পরিবেশ 

দুঃশ্চিন্তায় গাইবান্ধার আলু চাষিরা

দুঃশ্চিন্তায় গাইবান্ধার আলু চাষিরা
ছবি: ব্রেকিংনিউজ
ছাদেকুল ইসলাম রুবেল ০২ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ২:৪১ অপরাহ্ন Print

গাইবান্ধা: আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবার রংপুর অঞ্চলে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। কিন্তু এই ভালো ফলন চমকে দিয়েছে কৃষককে। সেই সাথে বাড়িয়ে দেয় লোকসান হবার দুঃশ্চিন্তাও। পরপর কয়েকবার লোকসান গুনে নিঃস্ব হওয়ার সেই স্মৃতি আজো নিরবে কাঁদায় কৃষকদের। তাই আলুর এই মৌসুমে রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ এবং পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ ও দাম নির্ধারণের দাবি প্রান্তিক চাষিদের।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেয়া তথ্য মতে, রংপুরের ৮ জেলায় প্রাথমিকভাবে ১ লক্ষ ৫৬ হাজার হেক্টর জমিতে আলু আবাদের টার্গেট করা হয়েছিল। কিন্তু এবার টার্গেট ছাড়িয়ে ১ লক্ষ ৭১ হাজার ৪৬৩ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ ও চাষিরা জানায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ৫১ লক্ষ ১ হাজার ২৪২ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর জেলায় ৫২ হাজার ১৮৫ হেক্টর, দিনাজপুর জেলায় ৪৩ হাজার ১০০, ঠাকুরগাঁ জেলায় ২২ হাজার ৭৬০, নীলফামারী জেলায় ২২ হাজার ৪১৫, পঞ্চগড় জেলায় ১০ হাজার ১৫২, গাইবান্ধা জেলায় ১০ হাজার ৩৫, কুড়িগ্রাম জেলায় ৫ হাজার ৬৬৬ এবং লালমনিরহাট জেলায় ৫ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

কৃষকরা জানিয়েছে, আবাদের শেষ পর্যন্ত এই আবহাওয়া থাকলে প্রতি হেক্টর জমিতে ২৯.৭৫ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হবে। গত মৌসুমে এই অঞ্চলে ১ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫২৯ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছিল, যা থেকে আলু উৎপাদন হয়েছিল ৪৫ লক্ষ ৩১ হাজার ৩১৩ মেট্রিক টন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আলু চাষের জন্য সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিনে গড়ে তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতে সর্বোচ্চ ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকা প্রয়োজন। আবাদের শুরু থেকে শীত বেশি পড়লে তাপমাত্রা কমে যায় এবং এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত থাকলে আলুর আবাদ ভালো হয়। এবার সেই আবহাওয়া আছে এই অঞ্চলে।

কৃষকরা জানিয়েছে, আলু চাষের জন্য প্রতি ২৪ শতক জমিতে খরচ হয় ১৫ হাজার টাকা। আলু হয় ২৫ থেকে ৩০ বস্তা। সে অনুযায়ী কমপেক্ষে প্রতি বস্তা আলুর দাম ৮শ’ টাকা হলে লোকসান হবে না। কিন্তু সেই দাম আদৌ পাবে কিনা তা নিয়ে নিয়ে শঙ্কা কাটছে না কৃষকদের।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় এ বছর আলুর আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। আর ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। তবে, ন্যায্য মূল্য নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা। যদি চাষিদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হয় তাহলে সবজি চাষে কৃষকরা আগ্রহ হারাতে পারে।

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এমএইচ



আপনার মন্তব্য

কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং