Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » কৃষি ও পরিবেশ 

নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অতিথি পাখিরা

নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অতিথি পাখিরা
ছবি: ব্রেকিংনিউজ
উজ্জ্বল রায় ০১ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, ১:০৬ অপরাহ্ন Print

নড়াইল: দিনে দিনে অতিথি পাখির আবাসস্থল কমে গেলেও নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার বাহিরপাড়া গ্রামের সিরাজ মোল্যার বাড়ির বাগানে কয়েক প্রজাতির হাজার হাজার পাখি বসবাস করছে। যাদের মধ্যে অতিথি পাখিও রয়েছে।

জানা যায়, দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এই জায়গাটি অতিথি পাখিসহ দেশীয় পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হলে ও সাম্প্রতিকালে শিকারিদের কারণে অতিথি পাখি আসা যেমন কমে গেছে তেমনি রাতে শিকারীদের গুলির শব্দে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। পাখি প্রেমী বৃদ্ধ সিরাজ মোল্যার পরিবারসহ এলাকার লোকেরা শিকারীদের আতঙ্কে রাত কাটান। তাদের আশংকা শিকারীদের অত্যাচারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অতিতি পাখিসহ দেশীয় পাখিদের জন্য গড়ে ওঠা এই নিরাপদ আবাসস্থল অচিরেই নষ্ট হয়ে যাবে। পাখি বান্ধব বাহিরপাড়া গ্রামের লোকেরা শিকার রোধে প্রশাসনের সহায়তা চান।

নড়াইল শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে কাশিপুর ইউনিয়নের এড়েন্দা বাজার থেকে সোজা উত্তরে অবস্থিত সবুজ-শ্যামল ছায়া ঘেরা বাহিরপাড়া গ্রাম। গ্রামের গন্ডব খালের মোহনা সংলগ্ন সিরাজ মোল্যার বাড়ির আঙ্গিনায় থাকা ৬৫টি গাছে প্রায় ১৪ বছর যাবত দেশী ও অতিথিসহ কয়েক হাজার পাখি বসবাস করে আসছে।

নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে আসা পাখিদের মধ্যে রয়েছে বক, বালিহাঁস, পানকৌড়ী, শামুকভাঙ্গাসহ ১০/১২ প্রজাতির পাখি।

বাহিরপাড়া গ্রামের কয়েকজন অধিবাসী জানান, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে পাখি আসে এবং টানা জুন মাস পর্যন্ত প্রায় ৭ মাস পাখিগুলি খালের দুইপাড়ে কয়েকটি বাড়ির গাছে বসবাস করে। এলাকার কোন মানুষেরই তারা ক্ষতি করে না। আমরা প্রকৃতির বন্ধু পাখিদের নির্ভয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে নড়াইল ও লোহাগড়া এলাকা থেকে প্রায় প্রতি রাতেই বন্ধুক, এয়ারগান, শর্টগান সাথে নিয়ে কিছু লোক এলাকায় অবৈধভাবে পাখি শিকার করতে আসে।

সিরাজ মোল্যা (৭০) জানান, অতিথি পাখিসহ দেশীয় প্রজাতির পাখিগুলো সারাদিন গন্ডব খাল এলাকাসহ বিভিন্ন মাঠে চরে বেড়ানোর পরে বিকাল হতে আমাদের বাড়িতে আসতে শুরু করে। আমাদের কয়েকটি বাড়ি ছাড়াও তারা খালের ওপারে কয়েকটি বাড়িতে রাতে আশ্রয় নেয়। সারারাত কিচির মিচির করে গাছগুলোতে রাত কাটায় আবার খুব ভোরে আজানের সময় কলকাকলি করে আবার বাসা ছেড়ে বের হয়ে যায়। আমাদের দিনরাত কাটে পাখিদের আনন্দের সাথে। আমরা বিশ্বাস করি গ্রামের যে বাড়িতে পাখি বসবাস করে সেখানে অনেক শান্তি আসে, পাখিরা শান্তি পায় যেখানে সেখানেইতো তার আশ্রয় নেবে। এই বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে গ্রামবাসী তাদের আগমনে খুবই খুশী হয়।

সিরাজ মোল্যার স্ত্রী জায়েদা বেগম (৫৫) জানান, প্রায় ১৫ বছর আমাদের বাড়িসহ আশেপাশের বাগানে কয়েক হাজার পাখি বসবাস করে আসছে। তাদের কলকাকলি আর কিচিরমিচির শব্দ এলাকার মানুষের প্রাণ ভরে যায়। দুর দুরন্ত এলাকা থেকে মানুষ বিকালে প্রকৃতির অপূর্ব এ দৃশ্য দেখতে আমাদের বাড়ি ছুটে আসে। এ অবলা পাখি আমাদের কারোরই ক্ষতি করেনা। কিন্তু পাখি শিকারিরা রাতের বেলায় বন্দুক দিয়ে গুলি করলে পাখিরা উড়ে যায়, আমাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়, তাদের কাছে অস্ত্র থাকায় সাহস করে এলাকার বা আমারা কেউ তাদের বাধা দিতে পারছিনা। আমার ৩ ছেলে সবাই বিদেশ থাকে। ভয়ে আমরা রাতে ঘর থেকে বের হতে পারি না আর শিকারীরা নিরীহ পাখি শিকার করে নিয়ে যায়। প্রশাসন যদি সহায়তা করে তাহলে পাখি শিকারিরা আর এখান থেকে পাখি শিকার করতে পারবেনা।

নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে কারো কাছ থেকে কোন অভিযোগ ও পাননি। পাখিরা প্রকৃতির ভারসম্য রক্ষা করে আসছে, তারা কোন মানুষের ক্ষতি করেনা। ফলে এখানে বসবাস করা পাখি রক্ষা করা সকলের কর্তব্য। পাখি শিকারীদের ব্যাপারে সঠিক তথ্য দিলে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমরা চাই অতিথি পাখিসহ সকল পাখিরাই নিরাপদে বসবাস করুক।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের সহায়তায় পাখি শিকারিদের শিকার বন্ধ করে অচিরেই এলাকাটি পাখির অভয়াশ্রম ঘোষণা করে তা সংরক্ষণ করা হোক। তা না হলে অচিরেই এই অভয়াশ্রম নষ্ট হয়ে যাবে।

ব্রেকিংনিউজ/প্রতিনিধি/এটিআর



আপনার মন্তব্য

কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং