Facebook   Twitter   Google+   RSS (New Site)

রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, পূর্বাহ্ন

প্রচ্ছদ » প্রবাস 

ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার

আমেরিকান বিমানের বিরুদ্ধে মামলা বাংলাদেশি দু’যুবকের

আমেরিকান বিমানের বিরুদ্ধে মামলা বাংলাদেশি দু’যুবকের
নিউয়র্ক প্রতিনিধি ২৫ জানুয়ারী ২০১৬, ১:৩৯ অপরাহ্ন Print

নিউইর্য়ক থেকে: আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে ৯ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা হয়েছে। এ মামলা করেছেন ২ বাংলাদেশি ও তার চার বন্ধু। যাত্রীবাহী বিমান থেকে জোর করে নামিয়ে দেয়ার ঘটনায় ওই মামলা দায়ের করা হয়।

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে এ মামলাটি দায়ের করেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, এক মাস আগে ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে ওই ঘটনার শিকার হন তারা। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ৪৪৭১৮ ফ্লাইটে করে টরেন্টো থেকে নিউইয়র্ক আসছিলেন তারা ৬ বন্ধু। ধর্মীয় বিদ্বেষমূলকভাবে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেয়া তাদের। এর মধ্যে দুই বাংলাদেশি, এক শিখসহ ৪ যুবক ছিলেন।

গত সোমবার তারা সম্মিলিতভাবে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।

নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে অবস্থিত ফেডারেল কোর্টে গত ১৮ জানুয়ারি সোমবার দায়েরকৃত ওই মামলার সংবাদ সিএনএন, ফক্স, এনবিসি, নিউইয়র্ক টাইমসসহ শীর্ষস্থানীয় মার্কিন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার ও প্রকাশিত হয়েছে।

৯ মিলিয়ন ডলার (৭২ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে মামলায়। মামলাটি দায়ের করেছেন এটর্নি টাহানি আবুশি।

ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেয়ায় প্রত্যেকের যে সম্মানহানী হয়েছে তার জন্যে এক মিলিয়ন ডলার করে মোট ৪ মিলিয়ন ডলার এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক আচরণের শাস্তি হিসেবে ৫ মিলিয়ন ডলারসহ মোট ৯ মিলিয়ন ডলার দাবি করা হয়েছে বলে এটর্নি আবুশি জানান।

এ মামলার নোটিশ ২১ জানুয়ারিও আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে না পাওয়ায় আমেরিকান এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে সর্বত্র ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে মামলা দায়েরের প্রেক্ষাপট। ব্রুকলীনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দায়েরকৃত মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে এটর্নি আবুশি উল্লেখ করেন, মুসলমান বলেই এহেন আচরণ করা হয়েছে আমার মক্কেলদের সাথে। যা অমার্জনীয় অপরাধ।

শান আনন্দ শিখ হলেও তার পোশাক দেখে অনেক অজ্ঞ লোক তাদেরকে মুসলমান বলে মনে করে। এমন বিভ্রান্তির শিকার হয়ে ৯/১১ পরবর্তী সময়ে বেশ ক’জন মৃত্যুর শিকার হয়েছেন আমেরিকায়।

ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেয়ার ওই ঘটনাটি গত ডিসেম্বর মাসের। নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফাইমুল আলম এবং মামুন কাশেম ওই ঘটনার শিকার হন।

এছাড়া তাদের বন্ধু ভারতীয় শিখ শান আনন্দ, মধ্যপ্রাচ্যের ডব্লিউ এইচ, পাকিস্তানের একজন এবং হিসপ্যানিক বংশোদ্ভূত আরেকজনসহ ৬ বন্ধু ভিন্ন ভিন্ন এয়ারলাইন্সে নিউইয়র্ক থেকে কানাডার টরন্টোতে বেড়াতে যান। সকলেরই বয়স ২০/২১ বছরের মধ্যে।

টরন্টোতে ক’দিন কাটানোর পর একই ফ্লাইটে ফেরার পরিকল্পনা করেন তারা। এজন্যে আনন্দ এবং আলম ৭৫ ডলার করে জরিমানা দিয়ে অন্য দু’জনের সহ-যাত্রী হন। ডব্লিউ এইচ এবং এম কে (সংবাদ সম্মেলনে এ দু’জনের নাম সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়) এয়ারপোর্টে বোর্ডিংয়ের সময় ৭০ ডলার করে প্রদান করে বিজনেস ক্লাসে তাদের টিকিট আপগ্রেড করেন। তারা প্রথম এবং তৃতীয় সাড়িতে সিট পান। অপর দুজনের সিট অনেক পেছনে ছিল। এ দু’জন অন্য দুই যাত্রীর সাথে সিট বিনিময় করে ৪ বন্ধু পাশাপাশি বসেন।

সবকিছু ঠিকই ছিল। ফ্লাইট নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে ছাড়ার আগ মূহূর্তে এক শ্বেতাঙ্গ মহিলা ফ্লাইট এটেনডেন্ট-এ এসে ফ্যাশন ডিজাইনার ডব্লিউ এইচকে ফ্লাইট থেকে নামতে বলেন।

ডব্লিউ এইচ এমন বিব্রত অবস্থার কথা স্মরণ করে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম যে, বিশেষ কোন কারণে হয়তো ফ্লাইট খালি করা হচ্ছে। তাই আমি বিনা বাক্যব্যয়ে বাইরে চলে আসি। বাইরে আর কাউকেই দেখিনি। সে সময় ফ্লাইট এটেনডেন্ট আমাকে ব্যাগও নামাতে বলেন।

এরপর এম কে অর্থাৎ মামুন কাশেমকেও ফ্লাইট ত্যাগের আহবান জানান। সে সময় ফ্লাইটের অন্য যাত্রীরা ফাইমুল আলম এবং শান আনন্দকে ঘিরে নানা ধরনের বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করতে থাকেন।

‘ভাগ্যিস এদেরকে নামিয়ে দেয়া হলো, অন্যথায় আমাদের কি অবস্থা হতো, আমাদের সন্তানেরা কোথায় যেতো’-এমন মন্তব্য করেন কয়েক যাত্রী।

অর্থাৎ ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেয়ারা ভালো মানুষ ছিলেন না বলেই ঐসব যাত্রীরা ভেবেছেন।

পাকিস্তানি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দুই যুবক তখন গভীর তন্দ্রায় আচ্ছন্ন থাকায় তাদের নামানো সম্ভব হয়নি। আনন্দ, আলম, মামুন এবং ডব্লুউি এইচকে টরন্টো এয়ারপোর্টে রেখেই আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নিউইয়র্কে চলে আসে।

সে সময় এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা ওই ৪ জনকে জানান যে, ফ্লাইটের ক্রুরা স্বাচ্ছন্দবোধ করছিলেন না। কারণ, তারা সিট পরিবর্তন করে একইসাথে বসায় ভীতির সঞ্চার ঘটিয়েছিল।

এটর্নি উল্লেখ করেন, ‘এ ধরনের আচরণের মাধ্যমে এয়ারলাইন্সের ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক আচরণের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। আমার মক্কেলরা বিব্রতবোধ করেছেন। এয়ারপোর্টের যাত্রীদের সামনে তাদেরকে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।’

পরবর্তী ফ্লাইটে অবশ্য এ ৪ জনকেই টরন্টো থেকে নিউইয়র্ক সিটির লাগোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্টে পরিবহন করেছে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট।

মামলা দায়েরকারি ৪ জনেরই জন্ম নিউইয়র্কে। ভবিষ্যতে এমন বৈরী আচরণের শিকার আর কোন মুসলমান যাতে না হন সেজন্যে এ মামলা করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আলম, আনন্দ এবং তাদের এটর্নি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

ব্রেকিংনিউজ/এইচএস



আপনার মন্তব্য

প্রবাস বিভাগের সর্বোচ্চ পঠিত ৩২


উপরে

ব্রেকিং